নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দাঙ্গা বা অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে এবার আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই উদ্দেশ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হলো। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।বিধানসভায় পেশ হয়েছে দুটি বিল।
প্রস্তাবিত নতুন বিলে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’-এর পরিধি ও সংজ্ঞা অনেকটাই বিস্তৃত করা হয়েছে। জনমনে ভীতি তৈরি করা, জনশৃঙ্খলা নষ্ট, অবৈধভাবে জমি বা সম্পত্তি দখল, সরকারি- বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, এবং বেআইনি খনি বা বালি পাচারের মতো অপরাধকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে বিলে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের প্রস্তাব রয়েছে। জেলা শাসক, পুলিশ কমিশনার বা রাজ্য সরকার চাইলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধ করার আগেই প্রতিরোধমূলকভাবে আটকে রাখতে পারবে। এই আটকাদেশের সর্বোচ্চ মেয়াদ হতে পারে ১২ মাস। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে নির্বাসিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীনে আনা অপরাধগুলিকে জামিন-অযোগ্য হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দাঙ্গায় সম্পত্তি নষ্ট হলে পকেট থেকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ দ্বিতীয় বিলটিতে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের জেরে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির যে ক্ষতি হয়, তা উশুল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।বিশেষ ক্লেমস কমিশন– ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশন তদন্ত করে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঠিক করবে এবং দোষীদের কাছ থেকে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের মতো কড়া পদ্ধতিতে সেই অর্থ আদায় করা হবে। নবান্নের যুক্তি বনাম বিরোধীদের আশঙ্কা প্রসঙ্গে বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান আইনগুলি সংঘবদ্ধ অপরাধ ও আধুনিক সময়ের অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে পুরোপুরি পর্যাপ্ত নয়। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই নতুন পরিকাঠামো। তবে বিল দুটি পেশ হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই আইনের ধারাগুলি অত্যন্ত কঠোর এবং ভবিষ্যতে শাসকদল এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা বিরোধী দমনে ব্যবহার করতে পারে। পাল্টা জবাবে সরকারের দাবি, এই আইনের একমাত্র লক্ষ্য জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি এর পেছনে নেই।এখন দেখার, বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনার পর এই বিল দুটি কী আকারে পাস হয়।