এক ঝলক
শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প, বহু মৃত্যুর আশঙ্কা প্রবল বৃষ্টি, দুর্যোগের মধ্যেও চলছে উদ্ধারকাজ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপ মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প, বহু মৃত্যুর আশঙ্কা

কারকাস: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা। বৃহস্পতিবার দু’বার কেঁপে ওঠে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫। ভয়ংকর এই ভূমিকম্পের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছে ভেনেজুয়েলা।
Ganamadhyam
26 June, 2026
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভয়ংকর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।  আহতের সংখ্যা প্রায় ৭০০। মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোটা ভেনেজুয়েলাজুড়ে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজধানী কারাকাস-সহ একাধিক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন  হাজার হাজার মানুষ।বিশেষজ্ঞদের মতে, লাতিন আমেরিকায় আঘাত হানা এটিই শতাব্দীর জোড়া ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার  প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজধানী  কারাকাস সহ একাধিক এলাকায় বহু বাড়ি ও বহুতল ভেঙে পড়ে। ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পরপর দু’টি বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কারকাস-সহ ভেনেজুয়েলার একাধিক এলাকা। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জোড়া এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। ঠিক তার প্রায় ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে আরও একটি শাক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এটির উৎস্থলও ওই একই জায়গায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয় শক্তিশালী ওই ভমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫। ভয়ংকর এই ঘটনায় বহু মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কারাকাসের একাধিক আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।  নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসছেন মানুষজন। কোথাও কোথাও ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বাড়িঘর। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ধ্বংসস্তূপের জেরে অবরুদ্ধ একাধিক রাস্তা।জোড়া ভূমিকম্পের পরই কারাকাসের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু মোবাইল ফোনের টাওয়ারও। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। জাতির উদ্দেশে ভাষণে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ জানান, ভূমিম্পের ফলে দেশের বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও তথ্য তিনি উল্লেখ করেনি।ভেনেজুয়েলার প্রশাসন ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সেনা, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে। হাসপাতালগুলিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ই-পেপার