এক ঝলক
প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা শুনতে রাজি প্রধান বিচারপতি প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনছে সরকার চাঁদাবাজি দুর্নীতি সহ্য করা হবে না ঃ মুখ্যমন্ত্রী রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতাল ময়নাগুড়ি সুভাষ নগর হাই স্কুলের ক্লাসরুমে গোখরো সাপ

রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতাল

নিজস্ব সংবাদদাতা (বসিরহাট) : রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতাল।
Ganamadhyam
25 July, 2026


হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডর এবং ওষুধ সংরক্ষণের ঘরে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়লেন রোগী, তাদের পরিজন এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ভোর থেকেই চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে হাসপাতাল চত্বর এবং ভবনের একাধিক অংশে জল জমে যায়। শুক্রবার সকালে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে হাসপাতালে এসে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দেখেন, হাসপাতালের ভিতরে হাঁটুসমান জল জমে রয়েছে। করিডর দিয়ে ঢেউ খেলিয়ে জল প্রবাহিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের যাতায়াত যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি চিকিৎসা পরিষেবাও স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালের মেডিসিন সংরক্ষণের ঘরেও জল ঢুকে পড়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ঘর এবং পরিষেবা বিভাগের কাজও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পরিষেবা দিতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা। বৃষ্টির সময় সামান্য জল পড়লেই হাসপাতাল চত্বরে জল জমে যায়। তাদের দাবি,গত ১৫ বছরে হাসপাতালের স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের দাবি, সন্দেশখালি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা এই গ্রামীণ হাসপাতাল। তাই হাসপাতালের এমন দূরবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, হাসপাতাল চত্বর থেকে জল সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিকাঠামোর সংস্কারের দাবি তুলেছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চিকিৎসা পরিষেবা আরও ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়বেন। তবে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, অতীতের সরকারের আমলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। তাই তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং হাসপাতালের নিকাশি ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে বর্ষার সময় আর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
এবিষয়ে সন্দেশখালির বিধায়ক সনৎ সর্দার বলেন, শুধু খুলনা হাসপাতাল নয়, গোটা এলাকাই জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। বিগত সরকার কাজ না করার ফল আজ সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। তবে আমি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক পরিষেবা পায়। যাতে অতি দ্রুত জল নিকাশ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
ই-পেপার