প্রণয়নে শুক্রবার সেই সংক্রান্ত খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হতে পারে সেই বিল। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের আরও কড়া শাস্তি দেওয়া যাবে। এই সংক্রান্ত ঘটনার দ্রুত বিচারও নিশ্চিত করা যাবে। জানা গিয়েছে, বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সঙ্গে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে। গত ৩ মে ডাক্তারির সর্বভারতীয় পরীক্ষা হয়। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া পরীক্ষায় বসে। কিন্তু সপ্তাহখানেকের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসে প্রশ্নফাঁসের খবর। বাধ্য হয়ে পরীক্ষা বাতিল করে এনটিএ। হতাশায় বহু পড়ুয়া আত্মঘাতী হন। সেই প্রশ্নফাঁস নিয়েই এখন তোলপাড় দেশ। চলছে আন্দোলন। দাবি উঠেছে, পদত্যাগ করতে হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এই আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গোটা ইস্যুতে মুখ খুলতে দেখা যায়। প্রশ্নফাঁস মামলায় তদন্ত করার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরির কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে জানান, এই অপরাধ রুখতে কড়া আইন আনা হবে। সেই আশ্বাস পূরণ করে শুক্রবার ক্যাবিনেটে পেশ করা হয় পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংশোধনী বিল। চলতি বাদল অধিবেশনে সংশোধনী বিল পেশ হবে। সম্ভবত সোমবারই এই বিল পেশ হতে পারে। বর্তমানে এনডিএ দলগুলির হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদের দুই কক্ষেই। ফলে বিল পাশ করাতে মোদী সরকারের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, দোষীদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল, সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা-এসব শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। যেসমস্ত সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তারা দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের পাঁচ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকার জরিমানা হতে পারে। জরিমানার অঙ্কটা সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এই নতুন আইনের জেরে। নিট-কাণ্ড নিয়ে শুক্রবারও সরগরম ছিল সংসদ। দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি হয় সংসদের দুই কক্ষেই। পরে সারা দিনের জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। সংসদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদেরা। লোকসভার ভিতরেও ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে স্লোগান দেন তারা।