এই ইস্যুতে প্রায় রোজই উত্তাল হয়ে উঠছে সংসদের বাদল অধিবেশন। এর মাঝেই বৃহস্পতিবার শাসক-বিরোধীদের বিক্ষোভ-পাল্টা বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ ভবনের মকর দ্বার। প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা এ দিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পাল্টা বিক্ষোভ শুরু করেন এনডিএ’র সাংসদরাও। একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন যুযুধান দুই পক্ষ। বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধি ছাড়াও শামিল হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধিরা। গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড হলেও বিরোধী বিক্ষোভে দেখা যায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তিনি এনসিপিআই-এ মিশে যাওয়া তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেন, বিজেপির সঙ্গে সংসদে ২০ গদ্দার রয়েছে। বিরোধী সাংসদদের জমায়েত থেকে স্লোগান ওঠে “জীবন বাঁচাও, নিট বন্ধ করো।” বিরোধী সাংসদদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করা হয়। অন্য দিকে এনডিএ সাংসদদের জমায়েত থেকে স্লোগান ওঠে, “যুবসমাজকে ঘাঁটিও না, রাহুল গান্ধি জেগে ওঠো।” একটা সময় দু’পক্ষের স্লোগানযুদ্ধে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। মুখোমুখি চলে আসেন শাসক এবং বিরোধী সাংসদেরা। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বিজেপি নেতা অরুণ সিংয়ের হাত থেকে একটি পোস্টার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষমেশ দু’পক্ষের মাঝে মানববন্ধনী করে দাঁড়িয়ে পড়েন সংসদের নিরাপত্তারক্ষীরা। তার পরেও স্লোগানযুদ্ধ চলতে থাকে। এ দিন ইন্ডিয়ার সাংসদরা কালো পোশাক পরে সংসদে এসে নিট প্রশ্নফাঁস, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন। তাদের অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, এনডিএ’র সাংসদরা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, সরকার নিট-সহ সমস্ত বিষয়েই সংসদে কোনও শর্ত ছাড়াই আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধীরাই রাজনৈতিক কারণে বারবার অধিবেশন অচল করার চেষ্টায় এমন হট্টগোল-গোলমাল করছে। এদিন সংসদের মকর দ্বারে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের সাংসদরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তার ফলে মুহূর্তে শাসক-বিরোধীদের এমন অবস্থানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পোস্টার কেড়ে নেওয়া এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, শুধুমাত্র আদালত গঠন যথেষ্ট নয়, সরকারের জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন থামবে না। সংসদের ভিতরে ও বাইরে এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষায় অব্যবস্থার প্রতিবাদে ছাত্র-যুবরা ধারাবাহিক বিক্ষোভ দেখাচ্ছে দিল্লির যন্তর মন্তরে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছে তারা। এই প্রেক্ষাপটেই নিট ইস্যুতে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ চত্বর।