নিজস্ব সংবাদদাতা : নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে বাড়ছিল আন্দোলনের ঝাঁঝ। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি।
এই আবহেই সংসদে শুরু হয়েছে বাদল অধিবেশন। বিরোধীরা নিট নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত নরেন্দ্র মোদীর সরকারও। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিট ইস্যুতে সোমবার সংসদ অভিযান করে সিজেপি। তাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। এরপর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের অদূরে ধরনায় বসেন রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি-সহ কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদবও। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের সেখান থেকে তুলে দেয় দিল্লি পুলিশ। কংগ্রেসের এই কর্মসূচি ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয় দিল্লি। ধরনা চলাকালীন রাহুলদের সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তখনই তিনি নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাহুল ধরনা তুলে নিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।শুধু তাই নয়, ক্রমাগত তিনি তার দাবিদাওয়া বদল করতে থাকেন বলেও অভিযোগ করেছেন জিতেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রিজিজু ঘোষণা করলেন, নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি নরেন্দ্র মোদীর সরকার। রিজুজু বলেন, আলোচনার সময় বিরোধীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। তাদের কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু আলোচনা আগেই যদি শর্তের পাহাড় তুলে ধরা হয়, তাহলে এর অর্থ হল – আপনারা আসলে আলোচনা চান না। আমরা খোলা মনেই জানিয়েছে যে, নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমরা আলোচনায় প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার এই প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডকে ‘মহাপাপ’ বলে উল্লেখ করার পরেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন,গত তিন দিন ধরেই আমরা বলছি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রথম দিন থেকেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট— সংসদের নিয়ম মেনেই আলোচনা হওয়া উচিত। আলোচনা কবে হবে, কতক্ষণ চলবে এবং কোন নিয়মের অধীনে হবে, তা সব দলের ফ্লোর লিডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করা হবে। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া উচিত। সরকার সেটাই চায়।