এক ঝলক
দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্টের চেষ্টা করলে রেয়াত করা হবে না‌ ঃ‌ প্রধানমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের রেলগেট দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী নিট-কাণ্ডের বিক্ষোভে উত্তপ্ত সংসদ চত্বর আলোচনায় নারাজ সিজেপি, ফের আলোচনার প্রস্তাব কেন্দ্রের জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে কারচুপির সম্ভাবনা ,তুফানগঞ্জ পৌরসভায় পুলিশের অভিযান

লোকসভার অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ

নিজস্ব সংবাদদাতা: লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
Ganamadhyam
23 July, 2026


মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তাকে বুধবার সাসপেন্ড করা হয়। সরকারের পক্ষে তৃণমূল সাংসদকে সাসপেনশনের প্রস্তাব দেন অর্জুন মেঘাওয়াল। ভোটাভুটিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেনশনের পক্ষেই সিলমোহর দেয় লোকসভা। এর ফলে অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে তিনি আর থাকতে পারবেন না কালীঘাট তৃণমূলের এই সাংসদ।  জানা গিয়েছে, স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে। তার প্রেক্ষিতে কল্যাণকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনা হয় লোকসভায়। ধ্বনিভোটে তা পাশও হয়। এর পরেই তাকে অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। জানা গিয়েছে, বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে বুধবার  লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। এই সময় ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের তিন মহিলা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং মিতালি বাগের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। কাকলি এবং ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর অন্য সাংসদেরা মিলে তখন চলে যান স্পিকারের ঘরে। স্পিকার তাদের লিখিত ভাবে নিজেদের অভিযোগ জানাতে বলেন। পরে দুপুর ২টোয় ফের অধিবেশন বসে। কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগটি তুলে ধরা হয়। তখন লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি-র সাংসদ কৃষ্ণপ্রসাদ তেনেটি। তিনি বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মহিলা সাংসদদের বিষয়ে অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করেছেন। অসংসদীয় টিপ্পনি করেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে স্পিকারের কাছে। কল্যাণের মন্তব্য অধিবেশনকক্ষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলেও জানান তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়ালকে কল্যাণের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাঠ করার জন্য নির্দেশ দেন। ওই প্রস্তাবে কল্যাণকে অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করার বিষয়ে লোকসভার সম্মতি চাওয়া হয়। নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং অন্য বিরোধী সাংসদদের হট্টগোলের মাঝেই ধ্বনিভোটে পাশ হয় প্রস্তাবটি। এর পরে কল্যাণকে অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।  কল্যাণ বলেন, আমাকে এখানে সাসপেন্ড করে কী করবে? বাড়ি থেকে তো বেরোতে পারে না! ২০ সাংসদের দল না? দেড় মাসে একটা মিটিংও করেছে কলকাতায়? ২০টা ভোটারও নেই ওদের।ওরা গদ্দার, ওরা বেইমান। আজই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এক বছর পরে এই সরকার ধসে পড়বে। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম সাংসদ শতাব্দী অভিযোগ, কল্যাণ মহিলাদের উদ্দেশে ‘কুকথা’ বলেন। সাংসদের কথায়,  কল্যাণদা এটা সবসময় করে থাকেন। সব সময় সকলের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। মহিলাদের গালাগালি দেন। এমন কথা কোনও ভদ্রলোকের মুখে ভাবা যায় না। দিদির কাছে অনেক সময় অভিযোগ গিয়েছে। দিদি বলতেন, ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও, আর হবে না। কিন্তু ওর সাহসটা দিনে দিনে এত বেড়ে গিয়েছে, উনি ভাবছেন সবাই ওর চাকর। অতীতেও মহিলা সাংসদদের নিশানা করে মন্তব্যের জেরে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল কল্যাণকে। গত মে মাসেও কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন কাকলি। লোকসভার স্পিকারের কাছে গত মে মাসে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। কল্যাণ অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড  হওয়ার পর মু‌খ খুলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, উনি নারীবিদ্বেষী। উনি কখনও সদনের ভিতরে, কখনও সংসদের বাইরে মহিলাদের অসম্মান করেন। গালিগালাজ করেন। আজও তার অন্যথা হয়নি। উনি মহিলাদের যে ভাষায় আক্রমণ করেন, তার প্রতিবাদে আজ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল স্পিকারের কাছে।
ই-পেপার