প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা শুনতে রাজি প্রধান বিচারপতি
নিজস্ব সংবাদদাতা: ককরোচ জনতা দলের সংসদ অভিযান ঘিরে গত সোমবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি। সেই বিক্ষোভে পুলিশ ব্যাপক ‘অত্যাচার’ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।
সেই মামলা শুনতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট। শুধু সংসদ অভিযান নয়, তার পরে ধারাবাহিক ভাবে নিট-কেলেঙ্কারি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের ‘অত্যাচারের’ কথাও উল্লেখ রয়েছে আবেদনে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী সোমবার মামলাগুলি শোনা হবে। দিন দুয়েক আগে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সামনেই সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এক আইনজীবী। চিঠি দিয়ে আবেদন গ্রহণের উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সেই আবেদন গ্রহণ করতে চাননি। শুধু তা-ই নয়, সংসদ অভিযানের সময়কার কিছু ভিডিয়ো আইনজীবী দেখাতে চাইলেও প্রধান বিচারপতি তা দেখতে চাননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।তবে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের সামনে সংসদ অভিযানে পুলিশের অতিসক্রিয়তার বিষয়টি তোলেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। বিক্ষোভকারীদের ‘মারধরের’ ঘটনায় দু’টি মামলা আনুষ্ঠানিক ভাবে দাখিল করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মামলাগুলি সোমবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুক্রবারই আবার নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। এই নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তাও দেয় শীর্ষ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধ্যের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের উদ্দেশে বলেছে, আমরা বিষয়টিকে গড়পড়তা ভাবে চলতে দিতে পারি না। পাশাপাশি সম্পূর্ণ কম্পিউটার -ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে সরে আসার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে শীর্ষ আদালত। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির বিলোপ ঘটিয়ে দেশে প্রবেশিকা পরীক্ষার গোটা ব্যবস্থারই সংস্কারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ আবেদন জমা পড়েছে। সেই সব আবেদন ভিত্তিতেই শুক্রবার বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়। সেই শুনানিতে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। দুই বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রকে জানিয়েছে যে, প্রশ্ন ফাঁসের এই বিষয়টি তারা ‘খুব নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করবে এবং ‘নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা’ করবে। শীর্ষ আদালতের ঘোষণা, আমরা নিশ্চিত করব যে, সব কিছু যাতে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিচারপতি নরসিমা এবং বিচারপতি আরাধ্যের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছে, সম্পূর্ণ ভাবে অনলাইন পদ্ধতিতে পরীক্ষার বন্দোবস্ত করার জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, কম্পিউটার- ভিত্তিক পরীক্ষা চালু হলে আপনারা কী ভাবে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, দয়া করে আমাদের জানান। সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রের আইনজীবী, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, পড়ুয়াদের সমস্যাগুলির সমাধানে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আদালতের সামনে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার জন্য আরও কিছু সময় চেয়েছেন। জবাবে দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলে, আমরা কিন্তু বিষয়টিকে গড়পড়তা ভাবে চলতে দিতে পারি না। ২৭ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষা যদি অনলাইনে নেওয়া হয়, তবে সেখানে তথ্যের নিরাপত্তা কী ভাবে কেন্দ্র নিশ্চিত করবে এবং হ্যাকিং রুখতে কেন্দ্রের কী পরিকল্পনা রয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে বলা হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে। বিচারপতিরা কেন্দ্রকে জানিয়েছেন, আদালত বিষয়টি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সরকারের কাজের অগ্রগতি কতটা হলো, তার নিয়মিত খোঁজখবর নেবে। তার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে সরকার ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরার জন্য কিছু দিন সময় চেয়েছে কেন্দ্র।