অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছুড়ে মারেন বিক্ষোভকারীরা। এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে বোরখা পরিধান সংক্রান্ত এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, ‘এভাবে ডিম ছোড়ার চেয়ে বোরখা পরে ডিম ছুড়ুন। তাহলে আপনাকে আর কেউ দেখতে পাবে না, আর আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হবে না।’ এই মন্তব্যের পরপরই এলাকা জুড়ে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং মহুয়াদেবী ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনেছেন, এমনই এক অভিযোগ তুলে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় তার বিরুদ্ধে লিখিত এফআইআর দায়ের হয়। আইনি প্যাঁচ থেকে বাঁচতে এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া মৈত্র। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির পর আদালত সাংসদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া পদক্ষেপের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে। আগামী ৫ অক্টোবর অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না বলে আদালত পরিষ্কার নির্দেশ দেয়। তবে রক্ষাকবচ দিলেও আদালত তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, আইন অনুযায়ী পুলিশ এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে।সেইসঙ্গেই আদালত নির্দেশ দেয়, সংসদের অধিবেশন মিটলে আগামী ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টায় মহুয়া মৈত্রকে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। সাংসদের নিরাপত্তা ও আগের অনভিপ্রেত ঘটনার কথা মাথায় রেখে হাইকোর্ট পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশও দেয়।নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়, মহুয়াদেবী যখন হাজিরা দিতে যাবেন, তখন তার ওপর যাতে নতুন করে ডিম ছোঁড়া না হয় এবং তিনি যেন কোনো ধরনের হেনস্থা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হন, তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকেই।