এক ঝলক
তৃনমূলের তালিকায় ১২ লক্ষ অযোগ্য, আবাসে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হল মিলন মেলায় বিনিয়োগ টানতে উদ্যোগী শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষণে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড তেহলকার তরুণ তেজপাল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া উত্তরপাড়া হাসপাতালের হাল ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

ধর্ম ও মাতৃভাষার পৃথক জনগণনা কোডের দাবিতে দিল্লিতে কুড়মি সমাজ

স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): জনগণনা ২০২৬-এ কুড়মি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও ভাষাগত পরিচয় পৃথকভাবে নথিভুক্ত করার দাবিতে দিল্লিতে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (আরজিআই)-র দফতরে স্মারকলিপি জমা দিল আদিবাসী কুড়মি সমাজের একটি প্রতিনিধিদল। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দিল্লির মানসিং রোডে অবস্থিত জনগণনা ভবনে গিয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনারের উদ্দেশে ওই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামশেদপুরের সাংসদ বিদ্যুৎ বরণ মাহাতো, গিরিডির সাংসদ চন্দ্র প্রকাশ চৌধুরী এবং পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, আগামী জনগণনা ফর্মে ধর্মের ঘরে 'কুড়মি' অথবা 'সারনা-কুড়মি ধারাম' এবং মাতৃভাষার ঘরে 'কুড়মালি'-কে পৃথক বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সেই সঙ্গে এই দুই পরিচয়ের জন্য পৃথক জনগণনা কোড নির্ধারণের আবেদনও জানানো হয়েছে। প্রতিনিধিদলের বক্তব্য, জনগণনায় ধর্ম ও মাতৃভাষা নথিভুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কোড ও শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কুড়মি ধর্ম এবং কুড়মালি ভাষার জন্য পৃথক কোড বা বিকল্প না থাকায় সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও ভাষাগত পরিচয় সরকারি জনগণনার তথ্যভান্ডারে আলাদাভাবে প্রতিফলিত হয় না।
Ganamadhyam
07 August, 2026
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা, বিহার, অসম ও ছত্তীসগঢ়ে বসবাসকারী কুড়মি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মাতৃভাষা রয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মের ঘরে 'হিন্দু' বা 'অন্যান্য' এবং ভাষার ঘরে অন্য কোনও ভাষার নাম নথিভুক্ত করতে হয়। ফলে জনগণনার তথ্যে কুড়মি সমাজের প্রকৃত ধর্মীয় ও ভাষাগত পরিচয় প্রতিফলিত হয় না। দাবির সমর্থনে ভারতীয় সংবিধানের ২৯(১), ৩০(১), ৫১(ক)(ফ), ৩৫০এ এবং ৩৫০বি অনুচ্ছেদের পাশাপাশি জনগণনা আইন, ১৯৪৮-এর উল্লেখ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। প্রতিনিধিদলের দাবি, সংবিধান প্রত্যেক সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় সংরক্ষণের অধিকার স্বীকার করেছে। সেই কারণেই জনগণনা ২০২৬-এ কুড়মি ধর্ম এবং কুড়মালি ভাষার জন্য পৃথক বিকল্প ও জনগণনা কোড চালুর আবেদন জানানো হয়েছে।প্রতিনিধিদলের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে কুড়মি সমাজের ধর্মীয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সরকারি নথিতে পৃথকভাবে প্রতিফলিত হবে এবং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ ও পরিসংখ্যান তৈরিতেও তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে। স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তারা বলে প্রতিনিধিদলের দাবি।
ই-পেপার