এক ঝলক
হঠাৎই শহরের কয়েকটি থানা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে কিরেণ রিজিজু'র উদ্যোগ অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আবার ধাক্কা, অনুমতি দিল না হাই কোর্ট ফারাক্কায় ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট কাণ্ড, শংসাপত্র বাতিল করল প্রশাসন পাঞ্জাব পুলিশের জালে সন্দেহভাজন আইএসআই ৯ জঙ্গি

রক্ষাকবচ চেয়ে কোর্টে নাজিমুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের চোখে ধুলো দিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে আত্মগোপন করে রয়েছেন বীরভূমের পাথর সম্রাট বলে খ্যাত টুলু মণ্ডল। আর সে অন্তরালে থেকেই এবার গ্রেফতারির আশঙ্কায় আইনি সুরক্ষার খোঁজে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেন বীরভূমের বিতর্কিত ‘পাথর সম্রাট’ নাজিমুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন জানান টুলুর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি শুনানির জন্য উঠতে পারে বলে জানা গিয়েছে। টুলু বেপাত্তা হলেও কীভাবে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করলেন বা ওকালতনামায় সই করলেন, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। ওয়াকিবহাল মহল এই ঘটনার সঙ্গে ২০১৯ সালের সারদা মামলায় তৎকালীন রাজ্য পুলিশের প্রভাবশালী কর্তার আত্মগোপন করে মামলা লড়ার উদাহরণের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। এদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন যে, সরকার বদলের পর পরই বিদেশে চম্পট দিয়েছেন টুলু। শুভেন্দুর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, টুলুর নামে-বেনামে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ মিলেছে যার মধ্যে ২৪২টি বিলাসবহুল ও পণ্যবাহী গাড়ি, ৩০০ বিঘা জমি সহ অন্তত ২১টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পুলিশকে এই ফেরার ব্যবসায়ীকে খুঁজে বের করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, টুলু মণ্ডলের এই বেআইনি সাম্রাজ্যের ওপর প্রথম আঘাতটি আসে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে তার ভগ্নিপতি তথা নিকট আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশির পর।
Ganamadhyam
06 August, 2026
 প্রথম দফাতেই ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজির বেশি সোনা ও রূপা। পরবর্তীতে আবার তল্লাশি চালিয়ে আরও পাহাড়প্রমাণ নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুধু আত্মীয়ের বাড়িই নয়, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন টুলুর বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রয়েছে প্রায় ৯৩ কোটি টাকা। এছাড়া তার নিজস্ব বাসভবন ও গ্যারেজ থেকে বিএমডাব্লিউ, অডির মতো একাধিক দামি গাড়ি সহ শতাধিক যানবাহন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাথর ব্যবসার আড়ালে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, তোলাবাজি ও জোর করে জমি দখলের মাধ্যমেই এই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবার নামছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরি (ইডি)। ইসিআইআর দায়ের করে ইডি আলাদাভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে। কিন্তু গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ধৃত মিনার মণ্ডল পুলিশি জেরায় দাবি করেছেন, টুলু তাকে শুধু সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে চলে যান, কিন্তু তিনি কোথায় গেছেন তা তার জানা নেই। বীরভূম জেলা পুলিশ ওই নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় টুলুকে মূল অভিযুক্ত করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলাও বিচারাধীন। ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে এসটিএফ টুলুর ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করেছে এবং বুধবারও টুলুর শ্বশুরবাড়িতে হানা দিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালিয়েছেন এসটিএফের আধিকারিকরা।
ই-পেপার