এক ঝলক
হঠাৎই শহরের কয়েকটি থানা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে কিরেণ রিজিজু'র উদ্যোগ অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আবার ধাক্কা, অনুমতি দিল না হাই কোর্ট ফারাক্কায় ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট কাণ্ড, শংসাপত্র বাতিল করল প্রশাসন পাঞ্জাব পুলিশের জালে সন্দেহভাজন আইএসআই ৯ জঙ্গি

অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আবার ধাক্কা, অনুমতি দিল না হাই কোর্ট

নিজস্ব সংবাদদাতা: সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে কলকাতা হাইকোর্টে এসেও মিলল না স্বস্তি। এসএসকেএম হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবেদন প্রত্যাহারের আর্জি জানালেও আদালতের তরফে তা মঞ্জুর করা হয়নি। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের বিদেশযাত্রা আপাতত বিশ বাঁও জলে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল। ঘটনার সূত্রপাত, গত ২০ জুলাই। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের একক বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সে দিন শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘আদালত আপনাকে তখনই বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে, যখন সেই চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, তিনি কখনও এসএসকেএম-এ গিয়েছিলেন কি না সে ব্যাপারে। পাশাপাশি ৩ জন চিকিৎসকের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার কথা বলা হয়। ওই বোর্ডের ছাড়পত্র মিললেই বিদেশে যাওয়ার অনুমতি মিলবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে না গিয়ে সোজা সুপ্রিম কোর্টে শরণাপন্ন হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু শীর্ষ আদালতেও মেলেনি সুরাহা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলার শুনানি কলকাতা হাইকোর্টেই হতে হবে। সেই মতো বুধবার হাইকোর্টে ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি ওঠে।
Ganamadhyam
06 August, 2026
শুনানিতে অভিষেকের বর্ষীয়ান আইনজীবী রেবেকা জন সওয়াল করেন, আমার মক্কেলের প্রতি পদক্ষেপের খবর রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার কাছে। বিদেশ যাওয়ার সাত দিন আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কলকাতায় পরিবার রয়েছে এবং এক জন সাংসদ হিসেবে চিকিৎসা করাতে যে কোনও দেশে যাওয়ার অধিকার তার আছে। তবে আইনজীবীর সওয়ালে বরফ গলেনি। বিচারপতি ভট্টাচার্য পাল্টা জানান, সমস্যা হল বিধাননগর পুলিশ থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক পৃথক পৃথক মামলা বিচারাধীন এবং তদন্ত চলছে। যদি একটি মাত্র মামলা থাকত, তবে আলাদা বিষয় ছিল। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, আজকের দিনে দেশ বা বিদেশ— চিকিৎসাক্ষেত্রে খুব একটা ফারাক তৈরি করে না। এসএসকেএম-এর অপথ্যালমোলজি বিভাগ অত্যন্ত নামী। তিন চিকিৎসকের বিশেষজ্ঞ কমিটি আজই পরীক্ষা করবে এবং পরশু রিপোর্ট দেবে। তারা বললে তবেই দেশের বাইরের কথা ভাবা যাবে। এর পরই জল গড়ায় অন্যদিকে। অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা জন আদালতকে স্পষ্ট জানান, তার মক্কেল এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক নন। কারণ, তার চোখের চিকিৎসা আগে থেকেই বিদেশে চলছে। এ দেশে সম্ভব হলে তিনি আর্জি জানাতেন না। আইনজীবীর এই বক্তব্যের পরই বিচারপতি জানতে চান,  তিনি আদেশে লিখে দেবেন কি না যে,  অভিষেক এসএসকেএম-এ যেতে চান না। বিপাকে পড়ে অভিষেকের আইনি দল তড়িঘড়ি মামলাটি প্রত্যাহার করার আর্জি জানায়। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আর্জি খারিজ করে দিয়ে বলেন, এটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুনানির জন্য এসেছে। তাই একে প্রত্যাহার করতে দেওয়া যাবে না। শীর্ষ আদালতের অনেক বিচারপতিও দেশেই চিকিৎসা করান। একই সঙ্গে আদালত আঙুল তোলে অভিষেকের পেশ করা নথির দিকে। বিচারপতি জানান, যে চিকিৎসকের চিকিৎসাধীন থাকার কথা আবেদনে বলা হয়েছে, তার কোনও মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর নথিতে উল্লেখ নেই। যদিও পরে অভিষেকের অপর আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্টারনেট ঘেঁটে বিচারকের কাছে ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত তথ্য পড়ে শোনান এবং যুক্তি দেন, শীর্ষ আদালতের অনেক বিচারপতিও বিদেশে যান চিকিৎসা করাতে। আমরা শুধু বিদেশের অনুমতির আর্জি জানিয়েছিলাম, এসএসকেএম-এ যাওয়ার কথা বলিনি। কিন্তু সমস্ত যুক্তিতর্ক শেষে চূড়ান্ত রায়ে অভিষেকের আর্জি খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
ই-পেপার