নতুন দিল্লি: বাদল অধিবেশন শুরু হলেও হট্টগোলের জেরে সংসদের কাজ সেইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিট প্রশ্নফাঁস থেকে শুরু করে রাম মন্দিরে অনুদান চুরির মতো ইস্যুতে প্রায় রোজই সবর হচ্ছেন বিরোধীরা। বিক্ষোভের জেরে ঠিকমতো চলছে না সংসদের কাজ। বিরোধীদের হইহট্টগোলে বুধবারও মুলতুবি হয় সংসদের অধিবেশন। এই অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এমনকি সেই লক্ষ্যে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে দেখাও করেছেন কেন্দ্রের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে বিরোধীপক্ষের সমর্থন চেয়েছেন তিনি। কিন্তু রাহুল সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন বলে খবর। গত এপ্রিল মাসে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এই বিল পাশ করাতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। তার জন্য সংসদের উভয়কক্ষে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার , তা সেই সময়ে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ছিল না। ফলে বিল পাশ হয়নি। সরকার পক্ষের লক্ষ্য, চলতি বাদল অধিবেশনেই তা পাশ করানো। যদিও বাদল অধিবেশনের কার্যতালিকায় তা নেই। সূত্রের খবর, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে পারলেই এই বিষয়টি নিয়ে এগোনো হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যার অনেক কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছে শাসক এনডিএ শিবির। অন্তত সংসদের নয়া সমীকরণ তেমনই বলছে। এই পরিস্থিতিতে বাকি বিরোধীদেরও সমর্থন পেতে রিজিজু রাহুলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির কাছে তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সূত্রের খবর,কেন্দ্রীয় সরকার কংগ্রেসকে জানিয়েছে, তারা ১৭, ১৮ ও ১৯ অগস্ট একটি বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকতে চায়। দলের অভ্যন্তরে এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনার পরেই কংগ্রেস তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে বলে কেন্দ্রকে জানিয়েছে।
এই আবহেই বুধবার রাহুল গান্ধির সঙ্গে দেখা করেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কিন্তু লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে মন্ত্রীর এক ঘণ্টার বৈঠকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সংসদে চলতি অচলাবস্থা কাটাতে রাহুলের সাহায্য চান রিজিজু। আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পুনরায় সংসদে পেশ করার জন্যও কংগ্রেসের সাহায্য চান তিনি। যদিও রিজিজুর প্রস্তাব খারিজ করে দেন রাহুল। সংসদের অচলাবস্থা কাটানোর জন্য পাল্টা শর্ত দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তার হুঁশিয়ারি, রামমন্দিরের প্রণামী চুরি ও ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানের দিন পড়ুয়াদের উপর পুলিশি ‘জুলুম’ নিয়ে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। রাহুলের সঙ্গে বৈঠকের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং শাহের সঙ্গে দেখা করেন রিজিজু। সিজেপি-র বিক্ষোভে পুলিশি মারধরের অভিযোগ তুলে সংসদের ভিতরে-বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। তাদের দাবি, সংসদে এসে এই বিষয়ে বিবৃতি দিতে হবে শাহকে এবং পুলিশের ‘দমনমূলক আচরণের’ জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। এর পাশাপাশি রামমন্দিরের প্রণামীচুরি নিয়েও বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র মতো বিরোধী দলগুলি। সংসদে প্রতীকী বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে। বুধবারও বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে প্রথমে বেশ কয়েক দফায়, পরে পুরো দিনের জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।