এক ঝলক
তৃনমূলের তালিকায় ১২ লক্ষ অযোগ্য, আবাসে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হল মিলন মেলায় বিনিয়োগ টানতে উদ্যোগী শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষণে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড তেহলকার তরুণ তেজপাল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া উত্তরপাড়া হাসপাতালের হাল ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

ধর্ষণে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড তেহলকার তরুণ তেজপাল

নতুন দিল্লি: ধর্ষণ মামলায় তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। ২০১৩ সালে সহকর্মীকে ধর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ‘তেহলকা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদককে দোষী সাব্যস্ত করে বম্বে হাই কোর্ট। তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আত্মসমর্পণ করার জন্য তাকে দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি নীলা গোখলে ও অমিত জামসান্দেকারের ডিভিশন বেঞ্চে বহু প্রতীক্ষিত এই মামলার রায়দান হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় তেহেলকা’র প্রতিষ্ঠাতাকে। শাস্তি নিয়ে শুনানির পরে উচ্চ আদালত জানায়, ২০১৩ সালের ঘটনার পরে তেজপালের বিরুদ্ধে অসদাচরণের নতুন কোনও অভিযোগ ওঠেনি। আর উভয় পক্ষই এখন নিজের নিজের জীবনে এগিয়ে গিয়েছেন। তবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তেজপালকে ভারতীয় দণ্ডবিধির দু’টি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হল। হাইকোর্টের এই আদেশে এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তেজপাল। ২০১৩ সালে গোয়ায় একটি সম্মেলন চলাকালীন এক মহিলা সহকর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে তরুণের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, গোয়ার এক হোটেলের লিফটে তাঁকে যৌন হেনস্থা করা হয়। গোয়া পুলিশের কাছে এফআইআর হয়।
Ganamadhyam
07 August, 2026
২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হন তরুণ। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে জামিনও পান। ২০১৭ সালে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে সেই মামলায় রেহাই পান তিনি। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় গোয়া সরকার। বৃহস্পতিবার ধর্ষণ মামলায় তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। উল্লেখ্য, গোয়ার নিম্ন আদালত ২০২১ সালে তাকে মুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু গোয়া সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি নীলা গোখেল এবং অমিত জামসান্দেকরের ডিভিশন বেঞ্চে। বৃহস্পতিবারই সাজা ঘোষণা হল। বম্বে হাই কোর্ট তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করায় তিনি জানিয়েছেন, আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। আদালতে তরুণ বলেন, আমার বয়স ৬২।আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার স্ত্রী রয়েছে। এর থেকে বেশি কিছু বলার নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, আবার আবেদন করব। আমার বিষয়টি যেন নম্রতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। তহেলকারই তৎকালীন এক তরুণী কর্মীর অভিযোগ ছিল, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ার এক পাঁচতারা হোটেলের লিফ্‌টে তাকে যৌন হেনস্থা করেছেন তরুণ। গোয়া পুলিশ তদন্তে নেমে জানায়, এক দিন নয়, পর পর দু’দিন ওই তরুণীকে যৌন হেনস্থা করেছেন তরুণ। যদিও তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে বরাবর দাবি করে এসেছেন তরুণ। তরুণের বক্তব্য ছিল, গোয়ার বিজেপি সরকারের সমালোচনা করার প্রতিশোধ হিসেবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা এনেছে রাজ্য সরকার। হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তরুণীর অভিযোগের সঙ্গে মিলে গিয়েছে বলে দাবি করেছিল গোয়া পুলিশ। ২০১৩-র ৩০ নভেম্বর তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। ছ’মাস গোয়ার ভাসকো-র একটি জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রায় তিন হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয় গোয়ার অপরাধদমন শাখা। ওই বছরের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে জামিন পান তরুণ। এর পর তিন বছর বাদে ফের ওই মামলার শুনানি শুরু হয়। ২০১৭ সালে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগকে মান্যতা দেয়। ২০১৯ সালে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তেজপাল সুপ্রিম কোর্টে যান, এফআইআর বাতিলের দাবি জানান। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে শীর্ষ আদালত সেই মামলা গোয়া আদালতে পাঠায়। ২০২১ সালে আদালতের তরফে তেজপালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি খারিজ করে দেওয়া হয়। তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে। তার পরই আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় গোয়া সরকার। সকালে আদালত যখন রায় ঘোষণা করে, তখন এজলাসেই ছিলেন তেজপাল। সেই সময়ে তিনি বিচারপতিদের উদ্দেশে শাস্তি লঘু করার আবেদন জানান। তিনি বলেছিলেন, আমার বয়স ৬২। আমি নিজেকে ভিকটিম বলেই মনে করি। আমার স্ত্রী রয়েছেন। এর বাইরে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যেতে পারি। দয়া করে আমার প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং লঘুদণ্ড দিন।
ই-পেপার