স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত ট্রাক ও ট্র্যাক্টর থেকে নিয়মিত অবৈধ টাকা আদায়ের অভিযোগে ফাঁদ পেতে ঝাড়গ্রাম থানার এক কনস্টেবল-সহ চার জনকে গ্রেফতার করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। ধৃত কনস্টেবল রতন প্রামাণিক। বাকি তিন জন শান্তনু বারিক, দীপঙ্কর বারিক ও রবি বারিক। তাদের বাড়ি ঝাড়গ্রাম থানার বাঁধগোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপুর এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে এই অভিযান চালানো হয়।
রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঝাড়গ্রাম এলাকায় চলাচলকারী ট্রাক ও ট্র্যাক্টর থেকে নিয়মিত অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়ে ফাঁদ পাতা হয়। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রাক মালিকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় তিন জনকে হাতেনাতে ধরা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে টাকা আদায়ের সঙ্গে এক পুলিশকর্মীর যোগ থাকার অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের এক জন বিভিন্ন ট্রাক থেকে ইতিমধ্যেই ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। সেই টাকা সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনে রতন প্রামাণিকের নম্বর ‘ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার’ নামে সেভ করা ছিল। সেই সূত্রেই রতনের ভূমিকা সামনে আসে বলে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার দাবি। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হয়। বিভিন্ন গাড়ি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রতন দীর্ঘদিন ঝাড়গ্রাম থানায় কর্মরত। ২০১৮ সাল থেকে তিনি থানার আইসিদের দেহরক্ষী হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম থানার আইসির দেহরক্ষী হিসাবেও ছিলেন। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে থানার আইসিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃত চার জনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পদ্ধতি এবং যোগাযোগের সূত্র নিয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, গতকাল এক জন কনস্টেবলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত করা হচ্ছে। এই টাকা আদায়ের চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, কতগুলি গাড়ি থেকে টাকা নেওয়া হত এবং কত দিন ধরে কারবার চলছিল, তা খতিয়ে দেখছে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা।