এক ঝলক
কেন গুন্ডাদমন আইন, ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালের মাধ্যমিকের রুটিন প্রকাশ রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান রাজ্যসভার উপনির্বাচনের তিনটি আসনের মনোনয়ন পেশ সুখেন্দুদের ইডির বিরুদ্ধে মামলা কালীঘাট তৃণমূলের

ইডির বিরুদ্ধে মামলা কালীঘাট তৃণমূলের

নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় নতুন মোড়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করল কালীঘাট তৃণমূল। কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার মূল বিতর্কের পাশাপাশি উঠে এল আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন। কালীঘাট তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষে দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলা করার আইনি অধিকার তাদের রয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আদালতে সংস্থার হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে এই আপত্তি তোলেন আইনজীবী এসভি রাজু।
Ganamadhyam
14 July, 2026
বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে সোমবার সেই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। কোন এক্তিয়ারে কালীঘাট শিবির এই মামলা করেছে তাও এদিন জানতে চাওয়া হয়েছে। এমনকি, কালীঘাটের কাছে দলীয় সংবিধানও দেখতে চায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইডির আইনজীবী এসভি রাজু আদালতে জানতে চান, তৃণমূলের এই মামলার অনুমোদনপত্র কোথায় বা কার অনুমোদনের ভিত্তিতে তারা এই মামলা করেছে তা নিয়ে। শুনানি শুরু হওয়ার আগেই সেই অনুমোদনপত্র দেখতে চায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। মামলার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই একই বিষয়ে জানতে চান। একইসঙ্গে আদালতের এ প্রশ্নও ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দোলা সেনের মামলা দায়ের করার বৈধ আইনি ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এই প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতকে জানান, দোলা সেন তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। সেই কারণেই দলের হয়ে মামলা করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে কোনও অসঙ্গতি নেই বলে রাজ্যের দাবি।
এদিকে কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে এই মামলার সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তার কাছে অনুমোদনের বিষয়টি জানতে চান বিচারপতি রাও। কিসের অধিকারের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়েছে, প্রশ্ন করা হয় তৃণমূলকে। এর পরেই দলের সংবিধান দেখতে চান ইডির আইনজীবী। তৃণমূলের তরফে তা নিয়ে আসার জন্য কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছিল। 
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ভাঙনে জেরবার তৃণমূল। এদিকে জয়ী বিধায়কেরা অধিকাংশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন তারা। দাবি করেছেন, তারাই ‘আসল তৃণমূল’। দলে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্তৃত্ব তারা অস্বীকার করেন। দলের প্রতীক থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সবেতেই নিজেদের অধিকার দাবি করেছে ঋতব্রত শিবির। এই পরিস্থিতিতে কয়েকশো কোটি টাকা-সহ তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। তার বিরুদ্ধেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, উচ্চ আদালতের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলায় প্রাথমিক ভাবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল। বিচারপতি জানান, প্রয়োজনে ফ্রিজ হওয়া ওই তিন অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করতে পারবে তারা। সেগুলি থেকে প্রয়োজনীয় আইনি খরচও নেওয়া যাবে। তবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষমতা আপাতত তাদের হাতে নেই। তার জন্য হাই কোর্ট স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করেছে। তার মাধ্যমেই টাকা তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের সই করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষরের পরেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী নির্দেশে আদালত জানিয়েছে, আপাতত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনিই ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করবেন। সেই সংক্রান্ত মামলাতেই এ বার ইডির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।
ই-পেপার