আইন-শৃঙ্খলা, সন্ত্রাসবাদ, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব, বাংলাদেশ পরিস্থিতি, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, রাজনৈতিক হিংসা-সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন,উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দলের কে কোথায় যাচ্ছে বা কারা কোন শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তা বিজেপির চিন্তার বিষয় নয়। বিধানসভার স্পিকার এবং দলীয় নেতৃত্বই সেই বিষয় দেখবেন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে শান্তনু সেনের যোগদান প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, কালীঘাট আগেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হতাশ হয়ে পড়েছেন। বারুইপুরে নিজের দলের কর্মীকে চড় মারার ঘটনাই সেই হতাশার প্রমাণ।
বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য মসজিদ সরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের ভিতরে কোনও ধর্মীয় স্থাপনা অবৈধভাবে থাকা উচিত নয়। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণ সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও উল্লেখ করেন।
পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, কে কোথায় যাবে তা ব্যক্তিগত বিষয়। তবে কেউ আইন ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সোনারপুরে বিজেপি সমর্থক এক মহিলাকে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট-পরবর্তী হিংসায় বিজেপির একাধিক কর্মী নিহত হয়েছেন এবং এর শেষ দেখে ছাড়া হবে।
উত্তরবঙ্গের তিন সাংসদকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে বেআইনি অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। প্রদীপ সরকারের তৃণমূলের জেলা সভাপতি হওয়ার বিষয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, প্রদীপ সরকার তার পরিচিত ও বন্ধু হলেও তৃণমূলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের বোর্ড লাগানো হলেও বাস্তবে কাজ না হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। কোথায় টাকা খরচ হয়েছে তার হিসাব দিতে হবে। যেখানে কাজ হয়নি, সেখানে যথাযথভাবে কাজ হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।