পাকিস্তানের পতাকা উদ্ধারের অভিযোগে দুর্গাপুরে উত্তেজনা, তদন্তে পুলিশ
সার্থক কুমার দে( দুর্গাপুর) : পাকিস্তানের পতাকা উদ্ধারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরের রায়ডাঙা কলোনি এলাকায়।ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কোকওভেন থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোকওভেন থানার অন্তর্গত রায়ডাঙা কলোনিতে অবসরপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী আশরাফ আলির বাড়ির সামনে একটি পাকিস্তানের পতাকা দেখতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। বিষয়টি দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দেশের ভাবাবেগে আঘাত হানার উদ্দেশ্যেই ওই পতাকা সেখানে টাঙানো হয়েছিল। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তারা সরব হন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার পুলিশ।উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে আশরাফ আলিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া পতাকাটি কীভাবে সেখানে এল, কে বা কারা সেটি টাঙিয়েছিল এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয়দের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আশরাফ আলি। তার দাবি, তিনি নির্দোষ এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে তার কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে পাকিস্তানের পতাকা উদ্ধারের অভিযোগের নেপথ্যে প্রকৃত ঘটনা কী,তা জানতে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।