দীর্ঘদিনের দাবিতে সিলমোহর, নতুন জেলা হচ্ছে বসিরহাট
নিজস্ব সংবাদদাতা(বসিরহাট) : দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর অবশেষে নতুন প্রশাসনিক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে বসিরহাট। রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বসিরহাটকে নতুন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করেন।
এই ঘোষণার পর থেকেই বসিরহাটের সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের দশটি ব্লক ও তিন পৌর এলাকা জুড়ে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় আরো ভালোভাবে পৌঁছে দিতে রাজ্যে একাধিক নতুন জেলা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে বসিরহাটের পাশাপাশি সুন্দরবন, জঙ্গিপুর ও আরামবাগের নামও। তবে উত্তর ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বসিরহাটকে জেলা করার সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে বসিরহাটকে পৃথক পুলিশ জেলা এবং স্বাস্থ্য জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে প্রশাসনিক জেলা হিসেবে বসিরহাটকে গড়ে তোলার দাবি আরও জোরদার হয়। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক মহল থেকে পৃথক বসিরহাট জেলার দাবি উঠেছিল। এবার সেই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তব রূপ পেতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেলে প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, মিনাখাঁ ও হাড়োয়া সহ নদীমাতৃক সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারি পরিষেবা পেতে আর দূরবর্তী জেলা সদর বারাসাতের দপ্তরের উপর নির্ভর করতে হবে না। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের এই ঘোষণাকে বসিরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পূরণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন সরকারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় এলাকাবাসী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বসিরহাট যে পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পেতে চলেছে, সেই সম্ভাবনাই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।