এক ঝলক
নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে, অনিয়ম রুখতেই অন্নপূর্ণা’য় তথ্য যাচাই : মুখ্যমন্ত্রী কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের ধর্মীয় সমাবেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা, স্বীকারোক্তি ধৃত পাক চরের মাইক খোলা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে ৬৫ শতাংশ বকেয়া দেওয়া শেষ, রাজ্যের দাবিতে কর্মী সংগঠনের অসন্তোষ

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদের ভবিষ্যত ঝুলেই রইলো

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার ভবিষ্যৎ ঝুলেই রইল। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে সরাসরি খারিজ না করলেও, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সংক্রান্ত স্পিকারের পদক্ষেপটি যে সম্পূর্ণ ‘অস্থায়ী’, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী দুই মাসের মধ্যে সিঙ্গল বেঞ্চকে এই স্পর্শকাতর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ফলে আগামী ৬০ দিন পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার কুর্সিতে ঋতব্রত থাকবেন, নাকি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বসবেন, তা নিয়ে আইনি জট এখন সিঙ্গল বেঞ্চের দিকেই গড়াল। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান বিরোধী দলের খেতাব পায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। গত ৯ মে সেই সংক্রান্ত চিঠি বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের কাছে পাঠানো হলেও অভিযোগ ওঠে, তিনি চিঠির বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি।
Ganamadhyam
19 August, 2026
ঘটনার নাটকীয় মোড় ঘোরে তার পরেই। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলের অন্দরে অসন্তোষ দানা বাঁধে এবং বিধায়কদের একাংশ শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। সেই পরিস্থিতিতে দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। গত ৯ মে সেই মর্মে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও, স্পিকার সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই দলের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করে বিরোধী দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঘটনার আগেই গত ১ জুন ‘দলবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে এদিন শুনানি চলাকালীন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের আইনজীবী সওয়াল করেন, ৫৮ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করে তাদের বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেটি মেনে নেওয়া ছাড়া অধ্যক্ষের কাছে অন্য কোনও পথ ছিল না। স্পিকারের এই পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শুনানিপর্বে ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অধ্যক্ষের আইনজীবী ও তার অবস্থানকে। কেন প্রথম চিঠিকে হঠাত্‍ ধামাচাপা দিয়ে দ্বিতীয় চিঠির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো— তা জানতে চায় আদালত। স্পিকারের তরফে আইনজীবী সওয়াল করেন, ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া স্পিকারের কাছে আর অন্য পথ ছিল না। এর জবাবে ডিভিশন বেঞ্চ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে, একপক্ষ ক্ষমতাবান, অন্যপক্ষ ক্ষমতাহীন— যদিও তারা একই দলের বিধায়ক। এই অবস্থায় স্পিকার আর কী-ই বা করতে পারেন! অন্য দিকে, স্পিকারের নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত সওয়ালে লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নিরপেক্ষ সংসদীয় ভূমিকার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে ডিভিশন বেঞ্চ আপাতত এই সিদ্ধান্তকে অস্থায়ী তকমা দিয়ে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই সময়ের মধ্যে সিঙ্গল বেঞ্চেই হলফনামা আদান-প্রদান ও যুক্তিতর্ক শেষে নির্ধারিত হবে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার আইনি ফয়সালা।
ই-পেপার