নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, কাজী নজরুল ইসলাম—কেউই এই আক্রমণ থেকে বাদ যাচ্ছেন না। দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যকে রক্ষার প্রশ্নে বামপন্থীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। আসামের প্রসঙ্গ তুলে মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, বিজেপি সেখানে সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। তার দাবি, এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, জমি-জমা ও বাড়িঘর নিয়েও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, তৃণমূল সরকারের সময়ে মানুষ জুলুম, তোলাবাজি ও দুর্নীতি থেকে মুক্তি চেয়েছিল। সেই সময় বিজেপির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কিন্তু সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি বদলেছে বলে অভিযোগ তুলে সেলিম বলেন, এখন আমরা দেখছি, সরকার হওয়ার যত দিন যাচ্ছে, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও খুন ততই বেড়ে চলেছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও ঘটনা ঘটে চলেছে।
তৃণমূলের আমলের যে অপরাধ ছিল, এখন কোনওটাই বাদ যাচ্ছে না। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলনে সাম্প্রতিক হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও উঠে আসে। সেই প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিম বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
রামপুরহাটের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন ঘটনায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও আত্মহত্যা কোনও সমাধানের পথ হতে পারে না। একইসঙ্গে দলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, আমরা হেরে গেছি, কিন্তু হারিয়ে যাইনি। তিনি আরও বলেন, যে কোনও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অপরাধীদের শাস্তি এবং দুর্নীতির দমন নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনিক অনিয়ম ও নিয়মকানুন না মানার অভিযোগ তুলে মহম্মদ সেলিম বলেন, ডুয়ার্স থেকে মন্দারমনি পর্যন্ত কোথাও কোনও নিয়মকানুন মানা হচ্ছে না। তার অভিযোগ, আগেও পরিস্থিতি ভালো ছিল না, কিন্তু বর্তমান সময়েও সেই সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি।সাংবাদিক সম্মেলনের শেষেও মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যে উঠে আসে একই বার্তা—রাজনৈতিক পরাজয় আন্দোলনের সমাপ্তি নয়, মানুষের দাবি ও অধিকার নিয়ে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।