তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতি দখল বিজেপির
বিশ্বজিৎ সাহা (মালদহ): রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহের মধ্যেই মালদার মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতিতে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির নতুন বোর্ড গঠন করল বিজেপি। মঙ্গলবার সভাপতি ও সহ- সভাপতি নির্বাচনের সভায় বিজেপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক দল প্রার্থী না দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন রিঙ্কু মণ্ডল এবং সহ-সভাপতি হন পল্লবী মণ্ডল। ফলে ভোটাভুটি ছাড়াই মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির নিয়ন্ত্রণ বিজেপির হাতে চলে এল।৩২ আসনবিশিষ্ট মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতিতে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৮টি, বিজেপি ৯টি, কংগ্রেস ৩টি এবং সিপিআইএম ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে তৃণমূল বোর্ড গঠন করে। সভাপতি হয়েছিলেন পিংকি মণ্ডল এবং সহ-সভাপতি হয়েছিলেন আমিনা খাতুন।তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয় বিরোধ। সভাপতি ও সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। সেই অনাস্থা প্রক্রিয়ায় বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেস ও সিপিআইএমের সদস্যরাও সমর্থন করেন বলে জানা যায়।
শেষ পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাবের জেরে অপসারিত হন তৎকালীন সভাপতি ও সহ-সভাপতি। এরপর নতুন করে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়।মঙ্গলবারের সভায় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিজেপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তৃণমূল, কংগ্রেস বা সিপিআইএমের তরফে কোনও প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এমনকি কংগ্রেসের দুই সদস্য সভা বয়কট করেন বলে জানা যায়। ফলে কোনও ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিঙ্কু মণ্ডল ও পল্লবী মণ্ডলের নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপির হাতে চলে যায় মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির পরিচালনার দায়িত্ব।নতুন সভাপতি রিঙ্কু মণ্ডল বলেন, দলের পক্ষ থেকে তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের দাবি, তৃণমূলের আমলে পঞ্চায়েত সমিতিতে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। সেই কারণেই তৃণমূলের সদস্যদের একাংশও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন। তার বক্তব্য, এবার থেকে বিজেপি পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনা করবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে প্রধান লক্ষ্য।’’অন্যদিকে, সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি পিংকি মণ্ডল অভিযোগগুলি অস্বীকার করে বলেন, এখন আমরা ক্ষমতায় নেই। বিজেপি মানুষের সেবা করতে চায়, তারাই করুক। আমরা সহযোগিতা করব। তবে আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির এই পালাবদলকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।