মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের প্রসঙ্গ তুলে কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন, যেখানে আমাদের এক কর্মীকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিন-তিন বাড়ির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের সামনেই তাঁকে অ্যাটাক করা হলো। এটা বর্তমান সরকারের কী সুশাসন?তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়েছে, কাদা ছোড়া হয়েছে। তার প্রশ্ন, গাড়িতে পাথর মারল, কাদা ছুঁড়ল—এটা কি সুশাসন? এটাকে কি আইনের শাসন বলে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। উনি যদি হেলমেট না পড়তেন, হয়তো তিনি মারাই যেতেন। এই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির ‘আইনের শাসন’-এর দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাতেও সরব হন কীর্তি আজাদ। তার অভিযোগ, মহুয়া মৈত্র একজন মহিলা সাংসদ। তাঁকে কার্যালয়ে ডিম ছুড়ে ছুড়ে মারা হলো, কোনও পুলিশ এল না। তার দাবি, সব জায়গায় বিজেপি কার্যকর্তারা এইভাবেই নোংরামি করছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে কীর্তি আজাদ বলেন, কোনও মহিলাকে সন্ধ্যার পর থানায় ডাকার ক্ষেত্রে আইনগত নিয়ম রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন। তার অভিযোগ, কোনও পুলিশ সন্ধ্যায় কোনও মহিলাকে থানায় ডাকতে পারে না। সেই ক্ষেত্রে মহুয়া মৈত্রের কামরা থেকে রাত ১১টার সময় বেরিয়ে যেতে বলা হচ্ছে—এটা শুভেন্দু অধিকারীর আইনের শাসন? রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলেও বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান কীর্তি আজাদ। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে বিজেপির এক কর্মীকে মেরে দিল। পরিবারের সঙ্গে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলেছেন। ছেলেটাকে প্রাণে মেরে দিল। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, বর্ধমানের ১৭ জনকে মেরে দিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমানে ১১ জনকে মেরে দিল—কি চলছে এগুলো পশ্চিমবাংলায়? তার অভিযোগ, বিজেপি সরকার প্রশাসন চালাতে ব্যর্থ। কীর্তি আজাদের কথায়, বিজেপি সরকার চালাতে জানে না। বিজেপির বাবা আরএসএস। তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিন ‘ডিম-থেরাপি’ প্রসঙ্গেও সরব হন তৃণমূল সাংসদ। বিজেপিতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের যোগদান নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সব চোরকে তো বিজেপি নিয়ে নিয়েছে। নিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমার দুই বছর হয়ে গেল, একটা কেস নেই। এবার হয়তো আমাকেও ডিম ছুঁড়বে।
এরপরই শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে কীর্তি আজাদ বলেন, ডিম তো শুভেন্দু অধিকারীর উপর ছোঁড়া দরকার। শুভেন্দু অধিকারীকে তো পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার সময় সবাই দেখেছি। তাহলে ওকে ডিম ছোড়া হচ্ছে না কেন? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গেও তীব্র আক্রমণ করেন কীর্তি আজাদ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, নোংরা একজন বালিশ চাটা হয়ে নেতা হয়েছে আর আমাকে শেখাচ্ছে। এরপর তার দাবি, তার তো চাটার ভিডিও সবাই দেখেছে। নিজের বিরুদ্ধে কোনও অনৈতিক কাজের অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ। তার কথায়, কই, আমার তো দেখা—আমার কোনও নোংরামি নেই। কোনও বাজে কাজ আমি করে রাখিনি। মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে কীর্তি আজাদ কার্যত বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের ঝড় তোলেন।