এক ঝলক
কামদুনির তদন্তে ছিল চরম গাফিলতি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পরিবারের অভিযোগ সীমান্তে মানব পাচার রুখতে স্বরূপনগরে বিএসএফের বিশেষ কর্মসূচি ফের বিয়ের পিঁড়িতে জেনিফার প্রতিবাদী জেলা সংস্থা এবং ক্লাবগুলিকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিলেন সিএবির ইলেক্টোরাল অফিসার হাওড়ার খটির বাজারে ছুরিতে আহত এক কিশোরী

কামদুনির তদন্তে ছিল চরম গাফিলতি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পরিবারের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা: কামদুনি গণধর্ষণ ও খুন মামলায় সিআইডি’র তদন্তে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সেই নিয়ে নালিশ জানাতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সকালে সল্টলেকের বিজেপির কার্যালয়ে জনতার দরবার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই কামদুনিতে ‘ধর্ষণ ও খুন’ হওয়া কলেজ ছাত্রীর পরিবার বিচার চেয়ে হাজির হন। মৃতার মা ও ভাই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে ছিলেন কামদুনির প্রতিবাদী দুই মুখ মৌসুমি কয়াল ও টুম্পা কয়াল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি মামলার শুনানির সময় চরম গাফিলতি করেছে। আদালতে যেখানে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করার কথা ছিল, সেখানে মাত্র ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেই দায় সারা হয়েছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ আদালতে পেশই করা হয়নি, যার সুবিধা পেয়েছে অভিযুক্তরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কামদুনির ঘটনার বিচার হবে। সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলা বিচারাধীন আছে। আদালতে রাজ্যের তরফে কোনও বিরোধিতা হবে না। রাজ্যের তরফে আইনজীবীরা পরিবারের পাশে থাকবেন। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরই কামদুনি মামলার ফের তদন্তের দাবি তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফের খুলবে কামদুনি ফাইলস।
Ganamadhyam
16 July, 2026
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর আশ্বস্থ হয়েছেন নির্যাতিতার মা ও ভাই। এবার মেয়ের মৃত্যুর বিচার হবে, সেই আশায় বুক বেঁধেছেন নির্যাতিতার মা।  মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার ভাই বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বলেন, আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি চাপা দিয়ে রেখেছিল। আমরা সেটা করব না। এরপরই নির্যাতিতার ভাই বলেন, ফাঁসি তো অবশ্যই চাই।কিন্তু, আজকাল যা ধর্ষণ বাড়ছে, এতে সরাসরি এনকাউন্টারে মেরে দেওয়া হোক। এনকাউন্টার আইন হোক।একইভাবে নির্যাতিতার দাদাও সেই দাবি করছেন। যদিও তিনি আইনের প্রতি বেশি ভরসা রাখছেন। মেয়ের ধর্ষণ-খুনের বিচার এতদিন পর পাবেন বলে আশাবাদী নির্যাতিতার মাও। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি সব জানি। আমরা বিচার পাব। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়েছি। টুম্পা ও মৌসুমী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তার উপর আস্থা রাখতে বলেছেন। ২০১৩ সালের ৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। কামদুনিকাণ্ডে ৪ অভিযুক্ত এখন বাইরে রয়েছেন। আর ২ জন এখন জেলে রয়েছেন। বারুইপুরকাণ্ডে অন্যতম এক অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার আশা প্রকাশ করেন, তারাও এবার বিচার পাবেন। সেই বিচারের আশাতেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে আসেন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। তাদের সঙ্গে ছিলেন কামদুনির দুই প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেসময় কামদুনি গিয়েছিলেন। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছিল তাঁর সামনেও। টুম্পা ও মৌসুমিকেও পরবর্তীকালে তৃণমূলের রোষানলে একাধিকবার পড়তে হয়েছিল।  মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর মৌসুমি কয়াল, টুম্পা কয়ালরা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী সবই জানেন, ওনার অজানা কিছুই নয়। কামদুনির আন্দোলন কেবল আমাদের ছিল না, মুখ্যমন্ত্রীরও ছিল। মুখ্যমন্ত্রীও কামদুনি আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। দ্রুত কামদুনি ফাইলস খোলা হবে। একমাসের মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।
ই-পেপার