এক ঝলক
কামদুনির তদন্তে ছিল চরম গাফিলতি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পরিবারের অভিযোগ সীমান্তে মানব পাচার রুখতে স্বরূপনগরে বিএসএফের বিশেষ কর্মসূচি ফের বিয়ের পিঁড়িতে জেনিফার প্রতিবাদী জেলা সংস্থা এবং ক্লাবগুলিকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিলেন সিএবির ইলেক্টোরাল অফিসার হাওড়ার খটির বাজারে ছুরিতে আহত এক কিশোরী

তৃনমূল সরকারকে কেন্দ্র আগেও টাকা দিয়েছে, দুর্নীতির জন্য রাজ্য বঞ্চিত ঃ শিবরাজ

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলার উন্নয়নে নরেন্দ্র মোদীর সরকার নানা প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ করলেও তৃণমূল সরকারের আমলে সেই কাজ আটকে ছিল।
Ganamadhyam
15 July, 2026


আর রাজ্যে পালাবদল হওয়ায় সেই উন্নয়নের কাজ গতি পেয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে রাজ্যে রেল, সড়ক, মহাসড়ক, মেট্রো-সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত প্রকল্প আটকে ছিল। মোট ৮২,৪৯২ কোটি টাকার কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে  কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর পাশেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এদিনের বৈঠকে আবাস, ভিবি জি রাম জি, গ্রাম সড়ক যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এরপরই শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা করেন শিবরাজ সিং চৌহান। তিনি জানান, এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে ১২৫ দিনের কাজ প্রয়োজনে আরও ৫০ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হবে। নবান্ন থেকে দুর্নীতি নিয়েও এদিন পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন তিনি। শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, কেন্দ্র আগেও টাকা দিয়েছে, কিন্তু রাজ্যের নেতাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই থেকেছেন।  কেন্দ্রের ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ রাজ্যে ফিরছে নতুন মোড়কে। ১২৫ দিনের কাজ বা ‘জিরামজি’ প্রকল্পে ন্যূনতম মজুরিও কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর এই প্রকল্পের জন্য ঘোষণামতোই ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র।মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের অনুরোধে আবাস যোজনার তালিকা তৈরির সময়সীমা কয়েক দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঠিক ছিল ২০ জুনের মধ্যে তালিকা তৈরির কাজ শেষ হবে। তবে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, কৃষিবিপণন, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী অশোক দিন্ডা। ওই বৈঠকে রাজ্যের কৃষি, আবাস যোজনা, ১২৫ দিনের কাজ-সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে শিবরাজ ‘জিরামজি’ প্রকল্পে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির কথা জানান। এখনও পর্যন্ত এই কাজের জন্য দু’কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী জানান, এই কাজে ন্যূনতম মজুরি ৩০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। অদক্ষ শ্রমিকেরা এই মজুরি পাবেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই মজুরির পরিমাণ ছিল ২৫০ টাকা। পরের অর্থবর্ষে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২৬০ টাকায়। তবে এ বার তা আরও কিছুটা বাড়ল। ফলে গুজরাত, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলির সঙ্গে একবন্ধনীতে এসে গেল পশ্চিমবঙ্গ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২১টি রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের ন্যূনতম মজুরি ৩০০ টাকা। তবে হরিয়ানা, কর্নাটক, হিমাচল প্রদেশের থেকে ন্যূনতম মজুরি কম। সেই সব রাজ্যে ন্যূমতম মজুরি ৩০০ থেকে ৪০৯ টাকার মধ্যে। এই প্রকল্পের অধীনে আধাদক্ষ শ্রমিকেরা পাবেন ৪৫০ টাকা এবং দক্ষ ৬০০ টাকা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি কোথাও কাজ আটকে যায়, তবে আরও ৫০ দিন বাড়তি সুযোগ দেওয়া হবে শ্রমিকদের। বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী জানান, আবাস যোজনার অধীনে এক লক্ষ বাড়ির অনুমোদন তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী। নবান্নের বৈঠকে দু’টি বিষয় নিশ্চিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ১২৫ দিনের কাজের জন্য ইতিমধ্যেই দু’কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডার চিহ্নিত হয়েছেন। আরও যারা আবেদন করবেন, তাদের কার্ডও অনুমোদনের জন্য নীতিগত সিন্ধান্ত নিতে আধিকারিকদের দায়িত্ব দিয়েছেন শিবরাজজি। এ ছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় এক লক্ষ বাড়ির অনুমোদন মিলেছে। শুভেন্দু বলেন, ২০ জুলাই পর্যন্ত আবাস যোজনার অধীনে বাড়ি প্রাপকদের তালিকা তৈরির সময় ছিল। তবে বর্ষা এবং অন্যান্য নানা দিক বিবেচনা করে আমাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। ১৫ অগস্ট পর্যন্ত তালিকা তৈরির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।’’ শুভেন্দু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে চাষযোগ্য জমির পরীক্ষানিরীক্ষা করা হবে। কোন জেলায় কোন জমির কোন মাটিতে কী ধরনের ফসল উৎপাদন করা যায় তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে। সেই জন্য চারটি ট্রেনিং সেন্টার এবং গবেষণাগার তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী। মালদহে আম, লিচু-সহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদনের জন্য ১০০ কোটি প্রকল্পে অনুমোদন মিলেছে। আলু, পাটের বীজ মূলত ভিন্‌রাজ্য থেকে আমদানি করা হয়। ভবিষ্যতে এ রাজ্যে যাতে আলু, পাটের বীজ উৎপাদন সম্ভব হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে। শিবরাজ জানান, পূর্ব ভারতের জন্য বীজ উৎপাদনের হাব হবে পশ্চিমবঙ্গে।
ই-পেপার