বর্ধমান জেলার উন্নয়নে উদ্যোগের বার্তা সঙ্গে মদন মিত্রকে খোঁচা সাংসদ সৌমিত্র খাঁ'র
নিজস্ব সংবাদদাতা (বর্ধমান) : জেলার সার্বিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হলো দিশা (ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি) কমিটির বৈঠক। বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার ঋষি অরবিন্দ সভাঘরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জেলার মন্ত্রী ও বিধায়কবৃন্দ, জেলাশাসক -সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বৈঠকে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং জনস্বার্থে চলমান একাধিক প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন দপ্তরের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। বৈঠক শেষে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে নিয়মিত দিশা কমিটির বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তার দাবি, দীর্ঘ বিরতির পর এই বৈঠক হওয়ায় জেলার উন্নয়নের নানা বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতভেদ নয়, সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।জেলার মন্ত্রী, বিধায়ক, প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করার মধ্য দিয়েই জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আগামী দিনে জেলার উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল নেতা মদন মিত্রকে নিয়ে সাম্প্রতিক সন্দীপন সাহা'র সাথে দেখা করা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, রাতে কে কার সঙ্গে দেখা করতে যাবে, না রাজনীতি করতে যাবে, সেটা দেখা ভারতীয় জনতা পার্টির কাজ নয়। রাতে বোতলের শর্ট ছিল, সেই খুঁজতে গিয়েছিল নাকি, সেটা মদন মিত্রই বলতে পারবেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে জেলার উন্নয়নই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দিশা কমিটির বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নকে আরও গতিশীল করা এবং প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা। দীর্ঘ এক দশক পর অনুষ্ঠিত এই দিশা কমিটির বৈঠককে ঘিরে জেলার প্রশাসনিক মহল এবং রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই ধরনের বৈঠক নিয়মিত হলে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।