স্বাধীনতার এত বছর পরও গ্রামের প্রধান রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলির অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত বেহাল বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ, কাদায় ঢেকে যাচ্ছে চলাচলের পথ। ফলে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকার রাস্তা নির্মাণের কাজের অনুমোদন হয়েছিল। সেই অনুযায়ী রাস্তার ধারে সরকারি প্রকল্পের বোর্ডও বসানো হয়। এরপর কিছুদিন রাস্তার আগাছা পরিষ্কার করার কাজ হলেও হঠাৎ করেই সেই বোর্ড খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে আর কোনও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও রাস্তার উপর একটি পাথর বা নির্মাণ সামগ্রীও ফেলা হয়নি। ফলে প্রকল্পের কাজ আদৌ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামের মানুষ।
অভিযোগ, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। সেই কাদা মাড়িয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক, বয়স্ক ও অসুস্থদের চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কিংবা শিশুদের স্কুলে পৌঁছনো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে বলে দাবি স্থানীয়দের।
গ্রামবাসীদের একটাই প্রশ্ন—যদি প্রকল্পের অনুমোদন হয়ে থাকে, তবে কাজ শুরু হলো না কেন? বোর্ড লাগিয়ে আবার খুলে নিয়ে যাওয়ার কারণ কী? দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গ্রামের বিজেপির বুথ সভাপতি ফাল্গুনী সাহা অভিযোগ করে বলেন, পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার রাস্তার কাজের জন্য বোর্ড লাগানো হয়েছিল। এরপর আগাছা পরিষ্কার করা হলেও হঠাৎ বোর্ড খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ পর্যন্ত রাস্তার কাজে কোনও পাথর, বালি বা অন্য কোনও নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়নি। ফলে এলাকার মানুষ চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। অবিলম্বে নতুন করে রাস্তার কাজ শুরু করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও জানানো হবে। অন্যদিকে, পান্ডুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লক্ষণ দাস বলেন, পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে তেওট গ্রামের রাস্তার জন্য বোর্ড লাগানোর পর কেন কাজ শুরু হলো না এবং কেন বোর্ড খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। গ্রামবাসীরা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন, সেটি আমরাও জানি। বিষয়টি বিডিও অফিসে জানানো হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
এখন তেওট গ্রামের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কবে বাস্তবে তৈরি হবে সেই প্রতিশ্রুত পাকা রাস্তা? সরকারি ঘোষণা কবে মাটিতে নামবে, সেই উত্তর খুঁজছেন এলাকার শতাধিক পরিবার।