এক ঝলক
হানিট্র্যাপ'-এ অপহরণের ছক হামিম ও অর্পিতার শিলিগুড়িকে আধুনিক স্মার্ট শহর‘হিমালয়ান সিট' রূপায়নে অগ্নিমিত্র পাল দুর্নীতিবাজরা আমাদের দলের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে ঃ দিলীপ অতিবৃষ্টিতে মাটির বাড়িতে ধস, চাপা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু প্রকল্পের বোর্ড উঠল, রাস্তা হলো না, হতাশ‌ তেওটের গ্রামবাসী

হানিট্র্যাপ'-এ অপহরণের ছক হামিম ও অর্পিতার

নিজস্ব সংবাদদাতা: পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টি জঙ্গি সংগঠনের ধৃত সদস্য হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।
Ganamadhyam
03 August, 2026
'
তদন্ত যত এগোচ্ছে  ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন ঠিক কিভাবে 'হানিট্র্যাপ' করে অপহরণের ছক কষেছিল হামিম ও অর্পিতা।  ফেক অ্যাকাউন্ট বানিয়ে কথা বলে  ভিক্টিমের বিশ্বাস-ভরসা অর্জন করে অপহরণের পরিকল্পনা ছিল তাদের।  বর্ধমানের জিম থেকে হামিমের গ্রেফতারির পরে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় এসেছে ধৃত হামিমের সঙ্গে তার বান্ধবীর চ্যাট।  সূত্রের খবর, সেই চ্যাটেই দেখা যাচ্ছে,বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে মেসেজ করে হামিম জানাচ্ছে, 'সাহাজাদ ভাট্টি' গ্যাং অস্ত্র পাঠাবে বলে সম্মতি জানিয়েছে। নজর এড়াতে 'ডিসকর্ড' অ্যাপে কথা বলতে বলে হামিম। এমনকী 'হানিট্র্যাপ'-এর জন্য ফেক অ্যাকাউন্ট বানিয়েছিল অর্পিতা। সেখানেই প্রথমে ভিক্টিমের বিশ্বাস-ভরসা অর্জন করত অর্পিতা। তারপরই অপহরণ করে ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হত। এসটিএফের গোয়েন্দাদের ধারণা, শুধু ওই মন্ত্রীর ছেলেই নয়, আরও কয়েকজনকে হানিট্র্যাপ করে হামিম-অর্পিতারা টাকা আদায় ও ব্ল‍্যাকমেল করার ছক কষছিল। সেই ক্ষেত্রে হামিম মণ্ডলের মতো আরও কতজন জঙ্গি সদস্য রাজ্যে রয়েছে, গোয়েন্দারা তার সন্ধান চালাচ্ছেন। পাক হ্যান্ডলারদের ছক ছিল, হামিম ও অর্পিতাকে দিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করা, কিছু টার্গেট শনাক্ত করা, সেই টার্গেটদের গতিবিধির উপর নজর রাখা। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বারহারোয়ায় থাকত অর্পিতা সরকার। সেখানে সে যার সঙ্গে থাকত, তিনি অর্পিতার বন্ধু বলেই সে জানিয়েছে। তবে মুর্শিদবাদের ফারাক্কা ব্লকের থেকে কিছুটা দূরে ফিডার ক্যানেলের পশ্চিমপাড়ে ঝাড়খণ্ডেই তার আসল বাড়ি। সেখানেই পড়াশোনা ও সে কলেজ থেকে স্নাতক হয় বলেও তার দাবি। ছোট থেকে মডেলিংয়ের শখ অর্পিতার। এলাকায় অত্যন্ত ‘স্মার্ট’ বলে পরিচিত অর্পিতার শখ ছিল বাইকেরও। বাইক চালিয়ে তাকে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখা যেত। ইতিমধ্যেই ধৃত অর্পিতার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে যেখানে দুটি সিমকার্ড ছিল। সোশাল মিডিয়ায় ফেক অ্যাকাউন্ট বানিয়ে চ্যাট, ভরসা অর্জন করে অপহরণের ছক, এভাবেই চলত হামিম-অর্পিতার 'হানিট্র্যাপ'। পুলিশের নজর এড়াতে ডিসকর্ড অ্যাপে হামিম-অর্পিতা কথা। হামিম- অর্পিতার চ্যাট থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের।
অর্পিতার থেকে উদ্ধার একটি ফোন, দুটি সিমকার্ড।  ২-৩ মাস আগে, রানা নামে এক পাকিস্তানের নাগরিকের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয় হামিম মণ্ডলের। এই রানার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে কুখ্যাত গ্যাংস্টার ও জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে সে। পরিচয় হয় হামিদ নামে এক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সঙ্গেও। এই প্রেক্ষাপটে, ১০-১২ দিন আগে যখন যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলছে, তখন পাকিস্তানি হ্যান্ডলার হামিদই হামিম মণ্ডলকে নির্দেশ দেয়, পুলিশের কিছু পোশাক জোগাড় করতে। তারপর সেই ইউনিফর্ম দিল্লির একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল হামিমকে। সূত্রের খবর, পুলিশের সেই ইউনিফর্ম পরিয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ছক ছিল জঙ্গিদের। কিন্তু আর্থিক লেনদেনের গোপনীয়তা রক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সেই পরিকল্পনা আর কার্যকর করা যায়নি। শেষ কয়েক মাসে, দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের জঙ্গি মডিউল সামনে এসেছে। জুলাই মাসেই দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপের ৬ জনকে গ্রেফতার করে। সূত্রের খবর, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন ও জনবহুল এলাকায় পেট্রোল বোমা দিয়ে হামলা চালানোর ছক কষেছিল ধৃত জঙ্গিরা। হামিম এবং অর্পিতাকে জেরা করে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলের খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। উঠে এসেছে ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’, ‘হামাদ’-এর মতো কিছু নাম।সবগুলিই পাকিস্তানি হ্যান্ডল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সূত্রের খবর, এর মধ্যে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দু’জনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল অর্পিতারও।
ই-পেপার