কেবল বিচ্যুতি মেনে নেওয়াই নয়, তোলাবাজদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শমীক স্পষ্ট বার্তাও দেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি মেনে এ ব্যাপারে আগামী ১৫ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারপর কড়া পদক্ষেপ বুঝবে সব পক্ষ। রাজ্য সভাপতির সুরেই সুর মিলিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক সংযোজন, ‘রাজনৈতিক কালচার রাতারাতি বদলায় না, প্রয়োজনে নিজের দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধেও পুলিশে অভিযোগ জানাতে পিছপা হব না।
এর পাশাপাশি শনিবার রাজারহাটের মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্প, শিক্ষা ও সার্বিক অগ্রগতির কথা বলতে গিয়ে কিছুটা অপ্রিয় সত্য তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘বাংলায় আমরা প্রথমবার সরকার গড়েছি, তিন মাসও হয়নি। কিন্তু সমস্ত কিছুর সমাধান আমরা করে ফেলতে পেরেছি বললে ভুল বলা হবে। তোলাবাজি আজও পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।’ আর এই তোলাবাজির শিকড় কোথায়, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শমীক বলেন, ‘মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। একটা কায়েমী সিন্ডিকেট তৈরি হয়ে রয়েছে। ক্ষমতার পটে বদল এলেই যে সমাজব্যবস্থা রাতারাতি আমূল বদলে যাবে, তা নয়।’ এরপরেই দলীয় অনুশাসন ও বহিরাগত অনুপ্রবেশ নিয়ে সোচ্চার হন তিনি।
ঠিক কারা চালাচ্ছ এই সিন্ডিকেট এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্য সভাপতির জানান, এর নেপথ্যে দুই ধরনের উপাদান কাজ করছে। প্রথমত, যারা ক্ষমতার অলিন্দে টিকে থাকতে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিজেপিতে যোগ দিয়ে কিংবা দলের নাম ভাঙিয়ে আগের মতোই তোলাবাজির কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, দলের ভেতরেরই কিছু কর্মী-নেতা, যাদের সুপ্ত বাসনা এতদিন অপূরণীয় ছিল, ক্ষমতার স্পর্শ পেতেই তা হঠাৎ ডালপালা মেলে বিকশিত হয়েছে। এরই রেশ ধরে শমীক স্পষ্ট জানান, ‘দলের নাম ভাঙিয়ে যারা তোলাবাজি করছে, দল তাদের গ্রহণ করেনি। বিচ্যুতি দুই-এক জায়গায় রয়েছে, কিন্তু কোনো বিচ্যুতিকে দিনের পর দিন মেনে নেওয়া হবে না। রাজ্য প্রশাসন স্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া হাতে এটা বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আর আমাদের দলের বার্তা স্পষ্ট— জিরো টলারেন্স। আমরা আর ১৫ দিন সময় দিচ্ছি, পরিস্থিতি কোন দিকে যায় দেখছি। তারপর যা হওয়ার, বুঝতে পারবেন।শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সুর আরও চড়ান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই অনিয়মকে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ বলে তোপ দাগেন তিনি। সঙ্গে এও বলেন, ‘এই কালচার বন্ধ করাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা ফেরানো আর তোলাবাজি-সিন্ডিকেট বন্ধে আমরা দায়বদ্ধ। তবে রাতারাতি সব সম্ভব নয়, কিছুটা সময় লাগবে।এরই পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সাহস জুগিয়ে তার আবেদন, ‘তোলাবাজদের কোনো ভয় পাবেন না, চেপে যাবেন না। কোথাও কোনো বেআইনি দাবি উঠলে সরাসরি পুলিশ ও সরকারি মহলে জানান। প্রয়োজনে আমি আমার নিজের দলের লোকেদের বিরুদ্ধেও পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে আছি।