দলের কর্মীরা যাতে কোনও ভাবেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে না পড়েন সেই ব্যাপারে বার্তা দিয়ে আসছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই আবহেই আবার নানা জায়গা থেকে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। তার সাফ কথা, তোলাবাজি বা দুর্নীতি করলে কেউ ‘ছাড়’ পাবেন না। তিনি বলেন, তোলাবাজি সংস্কৃতি এত সহজে উঠে যাবে, তা ভাবার কোনও কারণ নেই। তার অভিযোগ, দুর্নীতিবাজেরা আমাদের দলের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে।
দিলীপের দাবি, দলের অনেক নেতাই সেই প্রভাব এড়াতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমাদের অনেক নেতা আছেন, যারা নতুন এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রীর কথায়, কিছু নতুন বিধায়ক হয়েছেন, যারা ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে তোলাবাজেরা। নতুন ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে অনেকে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তাদের কথাবার্তা পাল্টে যাচ্ছে। মানুষ কেন রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন করেছে, তা আমরা যেন ভুলে না যাই। একই সঙ্গে দিলীপের হুঁশিয়ারি, ‘‘দল সব কিছুর উপর নজর রাখছে। ছ’মাস যেতে দিন, পার্টি সব হিসেব করবে। হুঁশিয়ারির সঙ্গে পরামর্শও দিয়েছেন দিলীপ। তার কথায়, আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব এই সব লোকের থেকে দূরে থাকা এবং অন্যায়ের বিচার করা। ইতিমধ্যেই দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে একাধিকবার কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তার কথায়, তৃণমূলীকরণ হলে বিজেপি থাকবে না। এটা হবেই না। শমীক ভট্টাচার্যর বক্তব্য, দু-একটি জায়গায় ছোটখাটো বিচ্যুতি আছে কর্মীদের। তারাই নিজেদের সংশোধন করে নেবেন। বিজেপির তৃণমূলীকরণ হয় না, হতে পারে। হলে সেটা আর বিজেপি থাকবে না। সুতরাং, এটা হবেই না। তবে দলেরই একাংশকে নাম না করে কটাক্ষও করেছেন তিনি। শমীকের কথায়, কেউ কেউ নিজেদের স্বঘোষিত কাউন্সিলর করে ফেলেছেন এলাকায় এলাকায়। রক্তদান উৎসব করছেন ভালো কথা। ৪৪ জন রক্ত দেবেন, আর ৪৪৪টি মাইকের চোঙা থাকবে! এর থেকে বেরোতে হবে সমাজকে। এগুলো পরিবর্তন করার জন্যই তো মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। শনিবার রাজারহাটে এক অনুষ্ঠানে দলের কর্মীদের একাংশকেই সতর্ক করেন শমীক। তোলাবাজি যে এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়নি, সেই কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।