তাই রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামার আগে কোনও রকম চাপ মাথায় নেই লিয়োনেল মেসির। গত বার বিশ্বকাপ জিতে যে আবারও একটি ফাইনাল খেলতে নামছেন তাঁরা, এই বিষয়টি ভুলেই গিয়েছেন মেসি। তাঁর কাছে সবই নতুন। ব্রাজ়িলের কাফুর পর রবিবার বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে তিনটি ফাইনাল খেলতে নামছেন। ফুটবলার হিসাবে আর কি কোনও কীর্তি অর্জন করা বাকি আছে? এই বিশ্বকাপ জিতলে কি তাঁকে বাড়তি সম্মান দেওয়া হবে? এক অনুষ্ঠানে এই প্রশ্নগুলিই রাখা হয়েছিল মেসির কাছে। মেসি মনে করেন, দু’টিরই উত্তর না হবে। মেসি বলেছেন, গত বারের বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিমধ্যেই খেলে ফেলেছি। আমার কাছে ওই ম্যাচ সে দিনই শেষ হয়ে গিয়েছে। গোটা প্রতিযোগিতায় তাঁর দল যে রকম চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে তাতে খুশি মেসি। এই কারণেই মেসির মনে হয়, ফাইনালে আলাদা কোনও চাপ তাঁদের উপর থাকবে না। মেসি বলেছেন, আমরা সকলেই আবেগ দিয়ে ফুটবল খেলতে খেলতে বড় হয়েছি। যেখানেই থাকি না কেন, সব সময়ে খেলতে চাই, মজা করতে চাই এবং উপভোগ করতে চাই। সেটা স্কুল হোক, রাস্তা হোক বা কোনও দলের হয়েই হোক। ছোটবেলায় সকলেই পাড়ায় ফুটবল খেলে বড় হয়েছি।” মেসি আরও বলেছেন, “কখনওই কেউ চাপ নিয়ে ভাবিনি। আমাদের মনে হয়েছে, খেলা এবং ভাল সময় কাটানো, এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আমরা লড়াকু দল। আমরা জিততে চাই। কিন্তু এটা দলগত খেলা। বিপক্ষ কোনও কোনও দিন ভাল খেলে দেবে। আপনি সব সময় জিততে পারবেন না। ছোটবেলায় শিখেছিলাম, জয়ের চেয়ে বেশি বার হারতে হবে। এটাই আমাকে ফুটবলার এবং মানুষ হিসাবে বড় করে তুলেছে।” ১৯৬২ সালে পর পর দু’টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। রবিবার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে ব্রাজ়িলের সেই কীর্তি ছুঁয়ে ফেলবে। এ দিকে, একই অনুষ্ঠানে মেসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তিনি একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় প্রবল চেঁচামেচি শুরু হয়। তাতে বিরক্ত হন মেসি। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকে আমাকে শেখানো হয়েছে, সকলের প্রতি সমীহ দেখাতে এবং তাঁদের কথা শুনতে। আমাদের সেটা মাথায় রাখা উচিত।”