এক ঝলক
কেন গুন্ডাদমন আইন, ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালের মাধ্যমিকের রুটিন প্রকাশ রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান রাজ্যসভার উপনির্বাচনের তিনটি আসনের মনোনয়ন পেশ সুখেন্দুদের ইডির বিরুদ্ধে মামলা কালীঘাট তৃণমূলের

রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান

নিজস্ব সংবাদদাতা: আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। ঠিক তার আগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্যে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। সোমবার এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এদিন বিধায়ক, জেলাশাসক এবং প্রশাসনের সর্বস্তরের আধিকারিকদের নিয়ে ভার্চুয়ালি সমন্বয় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। রথযাত্রা উৎসব পালনের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সবরকম ভাবে সহায়তা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
Ganamadhyam
14 July, 2026
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যপূর্ণ রথযাত্রা মেলায় সেবা কেন্দ্র করবে প্রশাসন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পরিচালনায় হবে ওই সেবা কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ মিলে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পূর্বতন সরকার যখন শুধু কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই দায়িত্ব সেরেছে, তখন তাঁর সরকার সরাসরি যোগ দেবে উৎসবে। শুধু রথযাত্রা নয়, শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থীদের জন্যও থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। এই পরিষেবা প্রদানের জন্য রাজ্যের তিনটি মন্দিরকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়,দশকের পর দশক উৎসব হয়, এমন ৬০টি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেব। এটি আমাদের অংশগ্রহণ। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, প্রথম বছর কমিটির তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি হলে যেন ‘ক্ষমাসুন্দর’ দৃষ্টিতে দেখা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, আগামী দিনে ত্রুটিহীন তালিকা তৈরি করব। আজ যে বৃক্ষ রোপিত হল, আগামী দিনে মহীরূহ হবে। ঐতিহ্যে পরিণত হবে। কমিটিগুলিকে তিনি অনুরোধ করেছেন, সরকারি সহায়তায় যেন পুরনো রথের সংস্কার করা হয়। বিশেষত যেগুলি কাঠের তৈরি। রথযাত্রা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও এক হাত নিয়েছেন। জানিয়েছেন, এই সরকার প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান মেনেই কাজ করবে। তার কথায়, এত দিন রথযাত্রাগুলিতে সরকারি স্তরে কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়ে সরকার দায়িত্ব পালন শেষ করত। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যে স্লোগান, উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য, দু’টিকে সামনে রেখে এগোতে চায়। এ বারের রথযাত্রায় সরকারি ভাবে, সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি জানান, সারা রাজ্যে ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সরকার। তার অধীনে থাকা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পরিচালনায় পুণ্যার্থীদের ‘ন্যূনতম পরিষেবা’ প্রদান করা হবে। পুরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিকে সেই পরিষেবা প্রদানে যুক্ত করা হবে। চলতি বছর শ্রাবণ মেলার সময় জলযাত্রীদের জন্যও বিশেষ পরিষেবার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেওরাফুলি থেকে তারকেশ্বরে যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। তারকেশ্বর ধামকে সাজানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ করছি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জলযাত্রীদের পরিষেবার জন্য রাজ্যের তিনটি ক্ষেত্রকে বেছে নিয়েছে সরকার— জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, একটি ভুটান সীমান্তবর্তী জয়ন্তী এলাকার মন্দির এবং তারকেশ্বর। এই তিন মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে পরিষেবা কেন্দ্র। সেখানে যে জলযাত্রীরা যাবেন, তাদের জন্য থাকবে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির। জলযাত্রীদের পথে জল, ওআরএস দেওয়া হবে। তাদের বিশ্রামের জায়গা থাকবে।
ই-পেপার