এক ঝলক
কেন গুন্ডাদমন আইন, ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালের মাধ্যমিকের রুটিন প্রকাশ রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান রাজ্যসভার উপনির্বাচনের তিনটি আসনের মনোনয়ন পেশ সুখেন্দুদের ইডির বিরুদ্ধে মামলা কালীঘাট তৃণমূলের

টানাবৃষ্টিতে জলমগ্ন বসিরহাট শহর, নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা

নিজস্ব সংবাদদাতা(বসিরহাট): টানা কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বসিরহাট পৌর এলাকা। শহরের একাধিক ওয়ার্ডে কোথাও কোমর সমান, কোথাও আবার হাঁটু সমান জল জমে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন বাসিন্দারা। বহু রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। কোথাও রাস্তা, খাল ও বিল একাকার হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় জল ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতেও। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শতাব্দী প্রাচীন বসিরহাট পৌরসভার নিকাশি ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও পরিকল্পনার অভাবই এই জলযন্ত্রণার মূল কারণ। শহরের পাশ দিয়ে ইছামতী নদী বয়ে গেলেও বৃষ্টির জল দ্রুত নদীতে নামার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।
Ganamadhyam
14 July, 2026
স্থানীয়দের দাবি, পৌর এলাকার একাধিক নিকাশি নালা বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শহরের জমা জল বের করে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যেমন কাটাখাল, বদরতলা খাল ও নৈহাটি খালের দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সেগুলিও বর্ষার অতিরিক্ত জল বহনের ক্ষমতা হারিয়েছে। অনেক জায়গায় খালের সঙ্গে সংযোগকারী জলপথও মাছের ভেড়ি তৈরির কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। এর জেরে শুধু শহর নয়, সংলগ্ন কৃষিজমিও দীর্ঘদিন জলমগ্ন অবস্থায় থাকে। ফলে বহু কৃষক চাষাবাদ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মাছ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে আবার জল নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ আরও সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, বসিরহাট পৌর এলাকার জল ইছামতী নদীতে না ফেলে কাটাখালের দিকে বের করার পরিকল্পনা থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। কিন্তু সেই খালের জল যাওয়ার পথ মাছের ভেড়ি তৈরি হওয়ায় কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কৃষিজমিতে সারা বছর জল জমে থাকায় কৃষকরা ফসল ফলাতে না পেরে মাছ চাষ শুরু করেছেন। ফলে বর্ষার সময় জল নিষ্কাশন আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শহরের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি জল জমেছে বসিরহাট পৌরসভার ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। বহু রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। জল ঢুকে পড়েছে বহু বাড়িতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আর এক বাসিন্দা অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি নালার সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়েছে। তার দাবি, আগের পৌর বোর্ড উন্নয়নের বদলে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণে ব্যস্ত ছিল। ফলে রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি। পরবর্তীকালে প্রশাসক বসানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। অনেক রাস্তা উঁচু করে দেওয়ায় জল নামতেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোমবার বসিরহাট পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে দেখা করেন। দ্রুত নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করা, খাল সংস্কার এবং জল নিষ্কাশনের স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তারা। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিবৃষ্টির কারণেই সাময়িকভাবে কয়েকটি এলাকায় জল জমেছে। ইতিমধ্যেই পৌরসভার কর্মীরা জল নিষ্কাশনের কাজ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জমে থাকা জল নেমে যাবে বলে আশাবাদী পৌর প্রশাসন।
ই-পেপার