সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গিরিজা বলেন, “এক জন অভিনেত্রী হিসাবে ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বক্সঅফিসের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তবে এটাও বুঝতে হবে যে, চলচ্চিত্র একটা ব্যবসা।এই বিশাল ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে অনেক মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই বক্স অফিসকে একেবারে অস্বীকার করা যায় না। ছবির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের সকলের আয় নিশ্চিত করতেই ছবির ব্যবসায়িক সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দেন, বক্সঅফিসের ফলাফল তাঁর অভিনয়কে প্রভাবিত করে না। তাঁর কথায়, “এক জন অভিনেত্রী হিসাবে শুটিং শেষের সঙ্গে সঙ্গে আমারও কাজ শেষ হয়ে যায়। বক্সঅফিসের ফলাফল কিন্তু তখনও অনেক দূরের বিষয়। আমি সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ছবি কতটা ব্যবসা করবে, সেটা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। তাই বক্সঅফিস আমার অভিনয়কে প্রভাবিত করে না। যদিও এই ইন্ডাস্ট্রির অংশ হিসাবে এটাও মানি যে, বক্সঅফিস থেকেই আমাদের রোজগার হয়।”
‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ ছবিতে কঙ্গনা রানৌত, স্মিতা তাম্বে এবং ঈশা দে-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন গিরিজা। ছবিটি নারীকেন্দ্রিক গল্প হিসাবে প্রচারিত হয়। গিরিজার মতে, বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিতে শক্তিশালী নারী চরিত্রের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ৩৮ বছরের অভিনেত্রী বলেন, “এই সময়টা অভিনেত্রীদের জন্য ভাল। এখন এমন মহিলা চরিত্র লেখা হচ্ছে, যাদের নিজস্ব মতামত, কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তারা শুধু প্রধান চরিত্র হিসাবেই নয়, পার্শ্বচরিত্র হয়েও দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছে। এটা তো ভাল বিষয়।” তবে তাঁর মতে, বিষয়টা শুধু নারীকেন্দ্রিক বা নায়ককেন্দ্রিক ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রতিটি ছবিতেই ভাল ভাবে লেখা চরিত্র থাকা জরুরি। গিরিজার কথায়, “প্রতিটি গল্পের নিজস্ব চাহিদা থাকে। সব ছবিতে এক জন নায়ককে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি করা সম্ভব নয়। অনেক গল্পই একাধিক চরিত্রের সম্মিলিত যাত্রা। তাই নায়ককেন্দ্রিক ছবি তৈরি করা ঠিক না ভুল, সেই বিতর্কে আমি বিশ্বাস করি না। আমার মতে, যে কোনও ছবিতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সুগঠিত ও বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র লেখা।”