জঙ্গলমহলের ক্রীড়া প্রতিভাকে তুলে ধরতে ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়াম সংস্কারের আশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর
স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): জঙ্গলমহলের ক্রীড়া প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে আনতে ঝাড়গ্রামের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়াম এবং লাগোয়া বেঙ্গল আর্চারি অ্যাকাডেমি পরিদর্শন করে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খান। স্টেডিয়াম ও অ্যাকাডেমির বিভিন্ন পরিকাঠামো ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণরত ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলমহল অবহেলিত ছিল। ফলে এখানকার বহু প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে সুযোগ-সুবিধার অভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। অথচ জঙ্গলমহলের যুবসমাজের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি স্বাভাবিক দক্ষতা ও আগ্রহ রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গকে যদি ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তা হলে জঙ্গলমহলের ছেলে-মেয়েদের উপরই আমাদের ভরসা। এখানকার প্রতিভার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুম, শৌচাগার, গ্যালারি, ভিআইপি বক্স-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়েছে। একই সঙ্গে বেঙ্গল আর্চারি অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, আবাসিক সুযোগ-সুবিধা এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীরা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা তাঁদের কাছ থেকেই জানার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আর্চারি অ্যাকাডেমি থেকে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারণে বহু ক্রীড়াবিদ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন আর্চারি অ্যাকাডেমিও প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই বর্তমান সরকার উদ্যোগী হয়েছে। ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামের উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী জানান, স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণ সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। বাজেটে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু গ্যালারি সংস্কার নয়, একটি আধুনিক অ্যাথলেটিক ট্র্যাক তৈরি, ফুটবল মাঠের মানোন্নয়ন এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষা করানো হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জঙ্গলমহলের মহিলা ফুটবলারদের জন্যও উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঝাড়গ্রামের ফুটবল মাঠকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেঙ্গল আর্চারি অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধাও আরও উন্নত করে এখানকার খেলোয়াড়দের অলিম্পিক, কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের উপযোগী করে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আর্চারি অ্যাকাডেমির অধিকর্তা সৌম্য মিত্র, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) সুদীপ্ত সাঁতরা, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ প্রমুখ।