নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব সংবাদদাতা(বারুইপুর): সূর্যপুরে নির্যাতিতার মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিক্ষোভের জেরে এলাকায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা তৈরি হয়। একের পর এক পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে এবং এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন।
ঘটনার পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি-দাওয়াও শুনেছিলেন আগেই। পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, সূর্যপুর এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ আউটপোস্ট বা পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে তোলা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশের সাহায্য পান।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই সেই দাবি বাস্তবায়িত হলো। সূর্যপুর হাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো নতুন পুলিশ ফাঁড়ি। শুধু পুলিশ ফাঁড়িই নয়, মহিলাদের নিরাপত্তা ও দ্রুত সহায়তার কথা মাথায় রেখে সেখানে চালু করা হয়েছে নারী সহায়তা কেন্দ্র।প্রশাসনের দাবি, নতুন এই পুলিশ ফাঁড়ি চালু হওয়ার ফলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।যে কোনও অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও এই কেন্দ্র বিশেষভাবে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূর্যপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই পুলিশ ফাঁড়ি ও নারী সহায়তা কেন্দ্র চালু হওয়াকে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী পাশাপাশি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজ নেন তিনি এবং এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে পরিবারের পাশে থাকবে বলে জানান।পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি নিহত ইন্দ্রজিতের দাদার হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় একটি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। সেই ক্ষতি কখনও পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্য সরকার মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবারের পাশে রয়েছে এবং আগামী দিনেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।