এক ঝলক
হানিট্র্যাপ'-এ অপহরণের ছক হামিম ও অর্পিতার শিলিগুড়িকে আধুনিক স্মার্ট শহর‘হিমালয়ান সিট' রূপায়নে অগ্নিমিত্র পাল দুর্নীতিবাজরা আমাদের দলের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে ঃ দিলীপ অতিবৃষ্টিতে মাটির বাড়িতে ধস, চাপা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু প্রকল্পের বোর্ড উঠল, রাস্তা হলো না, হতাশ‌ তেওটের গ্রামবাসী

অতিবৃষ্টিতে মাটির বাড়িতে ধস, চাপা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

সৌমেন আদক (ঝাড়গ্রাম): টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বড়নিগুই অঞ্চলের বড়শোল গ্রাম।
Ganamadhyam
03 August, 2026

শনিবার প্রবল বর্ষণের জেরে মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ৭৫ বছর বয়সী স্বর্ণা কালিন্দীর। ঘটনায় গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিরাপদ আবাসন ও স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় অধিকাংশ গ্রামবাসী দিনমজুরের কাজে বাইরে ছিলেন। বিকেলে বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন, একাধিক কাঁচা বাড়িতে জল ঢুকে দেওয়াল ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই সময় বাড়ির ভিতরেই ছিলেন স্বর্ণা কালিন্দী। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই দেওয়াল ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্বর্ণা কালিন্দী দীর্ঘদিন ধরেই চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছিলেন। তার ছেলে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বাকপ্রতিবন্ধী। বহুদিন ধরে সরকারি আবাসনের আশায় থাকলেও সেই সুবিধা তিনি পাননি বলে দাবি পরিবারের।
খবর পেয়ে নয়াগ্রাম থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান। পাশাপাশি জল নিষ্কাশনের কাজ শুরু হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলি পরিদর্শন করেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
দুর্ঘটনার পর আতঙ্কে বড়শোল গ্রামের ২৬টি পরিবারের প্রায় ১৬২ জন সদস্য বাড়ি ছেড়ে আইসিডিএস কেন্দ্র ও অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য, পানীয় জল, শিশুদের পোশাক- সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। নয়াগ্রামের বিডিও শান্তনু সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, এখনও বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা বাড়িতে বসবাস করছেন। তাই শুধু অস্থায়ী আশ্রয় নয়, দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন এবং উপযুক্ত জমিতে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের প্রশ্ন, "আজ একজন মারা গেলেন, আগামীকাল আর কেউ মারা যাবেন না—তার নিশ্চয়তা কোথায়?"
স্বর্ণা কালিন্দীর মৃত্যু আবারও গ্রামীণ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন, দারিদ্র্য এবং নিরাপদ বসবাসের অধিকারের প্রশ্নকে সামনে এনে দিল। এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য প্রশাসন কত দ্রুত স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করে, সেদিকেই তাকিয়ে বড়শোল গ্রামের মানুষ!
ই-পেপার