এক ঝলক
হানিট্র্যাপ'-এ অপহরণের ছক হামিম ও অর্পিতার শিলিগুড়িকে আধুনিক স্মার্ট শহর‘হিমালয়ান সিট' রূপায়নে অগ্নিমিত্র পাল দুর্নীতিবাজরা আমাদের দলের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে ঃ দিলীপ অতিবৃষ্টিতে মাটির বাড়িতে ধস, চাপা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু প্রকল্পের বোর্ড উঠল, রাস্তা হলো না, হতাশ‌ তেওটের গ্রামবাসী

লভ্যাংশে কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে সুবর্ণরেখার বালিখাদানে বিক্ষোভ

স্বপ্নীল মজুমদার( ঝাড়গ্রাম) : সুবর্ণরেখা নদীর বালিখাদানের লভ্যাংশ বণ্টনে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ তুলে পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হলেন শেয়ারহোল্ডাররা।
Ganamadhyam
03 August, 2026

রবিবার গোপীবল্লভপুর থানার নয়াবসান মৌজায় বালিখাদানের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শেয়ারহোল্ডার পরিবার-পরিজনকে নিয়ে ধর্না ও বিক্ষোভে বসেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিচালন কমিটির মুখ্য ব্যক্তি রাখাল জানা-সহ মোট ১৭ জন সদস্যকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, বালিখাদানের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য লভ্যাংশ মিটিয়ে দেওয়া এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিক্ষোভের জেরে বালিখাদান থেকে বালি উত্তোলনের কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৭ সালে সুবর্ণরেখা নদীর ওই বালিখাদান পরিচালনার জন্য মোট ৩১৭ জন শেয়ারহোল্ডারকে নিয়ে একটি সংস্থা গঠিত হয়। সেই সংস্থার পরিচালনার জন্য ১৮ সদস্যের একটি পরিচালন কমিটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে একজন সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় ১৭ জন দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে পরিচালন কমিটি কোনও সাধারণ সভা ডাকেনি বা শেয়ারহোল্ডারদের সামনে আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব পেশ করেনি। ফলে খাদান থেকে প্রকৃত আয় কত হয়েছে এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে সম্পর্কে অধিকাংশ শেয়ার হোল্ডারের কোনও ধারণাই নেই।
শেয়ারহোল্ডারদের অভিযোগ, বালিখাদানের একাধিক প্লট থেকে বিপুল পরিমাণ বালি উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হলেও তার সামান্য অংশই তাদের হাতে এসেছে। তাদের দাবি, তিন-চারটি প্লট মিলিয়ে মোটে ১২ লক্ষ টাকা লভ্যাংশ বণ্টন করা হয়েছে। অথচ একটি প্লট থেকেই ১৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাই একাধিক প্লটের আয়ের সঙ্গে বণ্টিত অর্থের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি সামনে এনে সম্পূর্ণ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, শেয়ারহোল্ডারদের নামে একাধিক কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করা হয়েছে। পরে সেই সব অ্যাকাউন্ট বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ সচেতন নন। সেই সুযোগে তাঁদের অজান্তে ওই সব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। ওই সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি এবং লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, পরিচালন কমিটির সদস্যদের অনেকের আর্থিক অবস্থার অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছে। কয়েক বছর আগেও যাদের আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল ছিল, তাদের অনেকেই এখন একাধিক বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তির মালিক। বালিখাদানের অর্থ আত্মসাৎ করেই এই সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে পরিচালন কমিটির মুখ্য ব্যক্তি রাখাল জানার প্রতিক্রিয়া জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠানো হলেও তার কোনও জবাব মেলেনি। প্রশাসনের তরফেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ই-পেপার