মলয় দেবনাথ( আলিপুরদুয়ার): টেন্ডার ছাড়াই হাসপাতালে চলছে খাবার সরবরাহ। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নামে এই টেন্ডার হলেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কোনদিন দেখা যায় না যশোডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে।
গ্রামীণ হাসপাতালে কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্যের দল পরিদর্শনে আসলেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দেখা যায় রান্না ঘরের দরজা খোলা রাখতে। গত তিন বছর ধরে হাসপাতালের রান্নাঘর তালা বদ্ধ অবস্থায় করে রয়েছে। গত জুন মাসে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রোগীদের খাবার সরবরাহ করার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও গত একমাস ধরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করেই যশোডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালে চলছে রোগীদের খাবার সরবরাহের কাজ। তৃণমূলের শাসনকালে যশোডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহ করার জন্য টটপাড়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জনতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত তিন বছর ধরে তারা রোগীদের খাবার সরবরাহ করছেন। গত জুন মাসেই তাদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে জুলাই মাস ধরে তারা খাবার সরবরাহ করেছেন রোগীদের। পহেলা আগস্ট থেকে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের নির্দেশে রোগীদের খাবারের মান বদলে দেওয়া হয়েছে। রোগী পতি ১১০ টাকা করে দেওয়া হবে আগস্ট মাসের ১ তারিখ থেকে। এদিকে গত তিন বছর জনতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অন্য এক মহিলাকে কাজের বরাত দিয়ে খাবার সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছেন প্রশাসনিক কর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা। আর এরপরেই একের পর এক রহস্য উদঘাটন হচ্ছে রোগীদের খাবার সরবরাহ নিয়ে। সরকারি নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও কি করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নির্দেশে অন্য এক মহিলা এই খাবার সরবরাহ করছেন তাই নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য আধিকারিককে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর রাজ্যের তৃণমূল ক্ষমতায় নেই কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশেই যশোডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালে চলছে খাবার সরবরাহ বিনা টেন্ডারে। তবে শেষ পর্যন্ত জনতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নাম করে কতদিন খাবার সরবরাহ হবে যশোডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালের রোগীদের সেটাই দেখার বিষয়।