এক ঝলক
পুজোর মুখে রাজ্য পুলিশে বড়সড় নিয়োগ শান্তিপূর্ণ জমায়েতে ধরপাকড় নয়, আইন মেনে পদক্ষেপ করতে হবে: সুপ্রিম কোর্ট কৃতী মানুষ ও যুবসমাজকে ভোটে নামার আহ্বান সুকান্ত মজুমদারের কলেজ পড়ুয়াদের সিজিপি’তে যোগদানে বিপুল অঙ্কের টাকার টোপ, অভিযোগে সরব পুরশুড়ার বিধায়ক সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলনে সাধারণ মানুষকেও তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ

হৃদযন্ত্রের সমস্যা গোপন করে ৩০ বছর খেলেছেন ফুটবলার

ডাকার : ফুটবল মাঠে তাকে দেখা গেছে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করতে, দলের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতে। কিন্তু মাঠের বাইরের এক লড়াইয়ের কথা জানতেন না তার পরিবারের সদস্যরাও। জন্ম থেকেই হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন সেনেগালের সাবেক ফুটবলার শেইখু কুয়াতে। অথচ সেই সমস্যা গোপন রেখেই বছরের পর বছর খেলেছেন পেশাদার ফুটবল। অবশেষে চিকিৎসকের পরামর্শে থামতে হয়েছে তাকে। ১৯৯৬ সালে ফুটবলে যাত্রা শুরু করে ২০২৬ সালে এসে ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন শেইখু কুয়াতে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেড, ক্রিস্টাল প্যালেস ও নটিংহাম ফরেস্টের মতো ক্লাবে খেলেছেন তিনি। তবে তার ফুটবলজীবনের পেছনে লুকিয়ে ছিল এমন এক শারীরিক সমস্যা, যা নিয়ে তিনি কাউকে কিছু জানাতে চাননি। সম্প্রতি নিজের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার কথা প্রকাশ করে কুয়াতে জানান, ইংল্যান্ডে খেলার সময় ছয় মাস পর পর তার শারীরিক পরীক্ষা করতেন চিকিৎসকেরা। পরীক্ষায় বারবার সমস্যাটি ধরা পড়লেও তিনি খেলা চালিয়ে গেছেন। এমনকি ঝুঁকির দায় নিজের বলে মেনে নিয়ে বিমাসংক্রান্ত কাগজপত্রেও সই করেছিলেন। কুয়াতের ভাষায়, ‘প্রতিবার পরীক্ষা করানোর সময় সমস্যাটি আবার ধরা পড়ত। চিকিৎসকেরা সব সময় আমাকে সমস্যাটির কথা জানাতেন। কিন্তু আমি নিজেই এর দায় নিয়েছিলাম।’ শুধু পরীক্ষার ফলেই নয়, মাঠেও শারীরিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হতো কুয়াতেকে। উষ্ণ আবহাওয়ায় খেলতে গিয়ে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করতেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে পেশিতে খিঁচুনি চলত। এই ব্যাপারে কুয়াতে বলেন, ‘আমি কখনো কাউকে কিছু বলিনি। আমি চাইনি, আমাকে আগেভাগেই ফুটবল ছাড়তে বাধ্য করা হোক। আমি আমার পরিবারকে কখনো বলিনি, এমনকি জাতীয় দলের চিকিৎসকদেরও না। তারা আমার সমস্যার কথা জানতেন না।’এই বছর বেলজিয়ামের ক্লাব আন্ডারলেখটে যোগ দিয়ে কোচিং কেরিয়ার শুরু করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ৩৬ বছর বয়সী কুয়াতের। কিন্তু মেডিক্যাল পরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মাঠের খেলা সংক্রান্ত সব কিছু বন্ধ করার পরামর্শ দেন। সেখানেই শেষ হয় ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা। দীর্ঘদিনের পরিচিত মাঠ, দর্শকদের উল্লাস আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াতে হলেও কুয়াতের গল্প রেখে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা—খেলার প্রতি ভালোবাসা যত গভীরই হোক, স্বাস্থ্যের ঝুঁকিকে উপেক্ষা করা যায় না।
Ganamadhyam
13 October, 2026
ই-পেপার