এক ঝলক
পুজোর মুখে রাজ্য পুলিশে বড়সড় নিয়োগ শান্তিপূর্ণ জমায়েতে ধরপাকড় নয়, আইন মেনে পদক্ষেপ করতে হবে: সুপ্রিম কোর্ট কৃতী মানুষ ও যুবসমাজকে ভোটে নামার আহ্বান সুকান্ত মজুমদারের কলেজ পড়ুয়াদের সিজিপি’তে যোগদানে বিপুল অঙ্কের টাকার টোপ, অভিযোগে সরব পুরশুড়ার বিধায়ক সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলনে সাধারণ মানুষকেও তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ

পুজোর মুখে রাজ্য পুলিশে বড়সড় নিয়োগ

নিজস্ব সংবাদদাতা: পুজোর আগে ১১,৫৯৩ জনের হাতে নিয়োগপত্র,যার মধ্যে মহিলা ৩,৩৭৯, নভেম্বরে আরও ৯ হাজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, ডিসেম্বরে কলকাতা পুলিশের ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে সরকার, জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর মুখে রাজ্য পুলিশে বড়সড় নিয়োগে খুশি পুলিশ মহলের পাশাপাশি পুলিশে নিয়োগ পাওয়া যুবক, যুবতি ও তাদের পরিবার। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে একসঙ্গে ১১,৫৯৩ জন নবনিযুক্ত পুলিশকর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিল রাজ্য সরকার। তাদের মধ্যে ৩,৩৭৯ জন মহিলা। শুধু নিয়োগপত্র বিতরণেই থেমে থাকলেন না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের জনবল বাড়ানো থেকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিএকগুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করলেন তিনি। একই সঙ্গে তার দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যে পুলিশকর্মীর সংখ্যার নিরিখে দেশের গড়কে ছাপিয়ে যাবে বাংলা। এমনকী, উত্তরপ্রদেশকেও টপকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যে পুলিশকর্মীর ঘাটতি পূরণে দ্রুত নিয়োগই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় গড়ে ১৫৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে সেই সংখ্যা প্রায় ২০০। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা মাত্র ১০৫। এই ব্যবধান ঘোচাতে আগামী দু’বছরে ব্যাপক নিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিশাল লামা, উমেশ রাই, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সংমিত্রা ঘোষ-সহ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।
Ganamadhyam
13 October, 2026
নিয়োগে আইনি জট কাটানোর দাবি করে এ দিনের অনুষ্ঠানে পুলিশ নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।তার দাবি, আগের সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর বিধানসভায় আইন সংশোধন, হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে পদক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের মামলা প্রত্যাহারের ফলে নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে। ইডব্লিউএস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির পরই নিয়োগের ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আইনি জট না কাটলে পুজোর আগে এত জন চাকরিপ্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া সম্ভব হত না। ভবিষ্যতেও লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই,সাক্ষাৎকার ও সংরক্ষণের রোস্টার মেনেই নিয়োগ হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্থ করতে তার বার্তা, 'ট্রাস্ট মি, বিলিভ মি'। নভেম্বরে আরও ৯ হাজার নিয়োগ রাজ্য পুলিশের নিয়োগ অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা পুলিশের ৩০০ জন সাব-ইনস্পেক্টর ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশের আরও ৪ হাজার কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্য পুলিশের আরও ৯ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৬৫০ জন পুলিশ ক্লার্ক নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। অর্থাৎ, একের পর এক নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীর শক্তি বাড়িয়ে পুলিশের কর্মীসংখ্যার ঘাটতি মেটাতে চাইছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই নিয়োগ অভিযান সফল হলে আগামী দু’বছরের মধ্যে রাজ্যের পুলিশ বাহিনী দেশের অন্যতম বৃহৎ বাহিনীতে পরিণত হবে। শুধু সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চলে না পুলিশের কাজে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাদের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে বলে জানালেও তার বক্তব্য, শুধু সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চালানো সম্ভব নয়। পুলিশের কাজে শারীরিক সক্ষমতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং দক্ষতা অপরিহার্য। সেই কারণেই নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত পুলিশকর্মী নিয়োগের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নবনিযুক্তদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, সততা বজায় রেখে এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে হবে, বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি। ডিএ, রেশন ভাতা ও প্রশিক্ষণে জোর পুলিশকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সম্প্রতি ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধি করে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমানো হয়েছে। অক্টোবর থেকে পুলিশ কর্মীদের রেশন ভাতা মাসে ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি।বর্ষাকালে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সুরক্ষার জন্য ২০ হাজার বর্ষাতি, ছাতা ও গামবুটের ব্যবস্থার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রশিক্ষণের মান উন্নত করতে নবনিযুক্তদের একাংশকে পর্যায়ক্রমে অসমের লাচিত বরফুকন পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গুজরাটের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্য পুলিশেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রয়োজনের সময় শুধু সেনা বা বিএসএফ নয়, রাজ্য পুলিশকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
ভাষণের শেষে নবনিযুক্তদের উদ্দেশে দেশরক্ষার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।তার বার্তা, ভারতমাতার কোনও ক্ষতি হতে দেওয়া যাবে না। দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি বাহিনীর দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা বাড়ানোই যে সরকারের লক্ষ্য, এ দিনের অনুষ্ঠানে সেই বার্তাই দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ই-পেপার