নিয়োগে আইনি জট কাটানোর দাবি করে এ দিনের অনুষ্ঠানে পুলিশ নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।তার দাবি, আগের সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর বিধানসভায় আইন সংশোধন, হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে পদক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের মামলা প্রত্যাহারের ফলে নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে। ইডব্লিউএস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির পরই নিয়োগের ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আইনি জট না কাটলে পুজোর আগে এত জন চাকরিপ্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া সম্ভব হত না। ভবিষ্যতেও লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই,সাক্ষাৎকার ও সংরক্ষণের রোস্টার মেনেই নিয়োগ হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্থ করতে তার বার্তা, 'ট্রাস্ট মি, বিলিভ মি'। নভেম্বরে আরও ৯ হাজার নিয়োগ রাজ্য পুলিশের নিয়োগ অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা পুলিশের ৩০০ জন সাব-ইনস্পেক্টর ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশের আরও ৪ হাজার কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্য পুলিশের আরও ৯ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৬৫০ জন পুলিশ ক্লার্ক নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। অর্থাৎ, একের পর এক নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীর শক্তি বাড়িয়ে পুলিশের কর্মীসংখ্যার ঘাটতি মেটাতে চাইছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই নিয়োগ অভিযান সফল হলে আগামী দু’বছরের মধ্যে রাজ্যের পুলিশ বাহিনী দেশের অন্যতম বৃহৎ বাহিনীতে পরিণত হবে। শুধু সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চলে না পুলিশের কাজে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাদের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে বলে জানালেও তার বক্তব্য, শুধু সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চালানো সম্ভব নয়। পুলিশের কাজে শারীরিক সক্ষমতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং দক্ষতা অপরিহার্য। সেই কারণেই নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত পুলিশকর্মী নিয়োগের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নবনিযুক্তদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, সততা বজায় রেখে এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে হবে, বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি। ডিএ, রেশন ভাতা ও প্রশিক্ষণে জোর পুলিশকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সম্প্রতি ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধি করে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমানো হয়েছে। অক্টোবর থেকে পুলিশ কর্মীদের রেশন ভাতা মাসে ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি।বর্ষাকালে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সুরক্ষার জন্য ২০ হাজার বর্ষাতি, ছাতা ও গামবুটের ব্যবস্থার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রশিক্ষণের মান উন্নত করতে নবনিযুক্তদের একাংশকে পর্যায়ক্রমে অসমের লাচিত বরফুকন পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গুজরাটের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্য পুলিশেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রয়োজনের সময় শুধু সেনা বা বিএসএফ নয়, রাজ্য পুলিশকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
ভাষণের শেষে নবনিযুক্তদের উদ্দেশে দেশরক্ষার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।তার বার্তা, ভারতমাতার কোনও ক্ষতি হতে দেওয়া যাবে না। দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি বাহিনীর দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা বাড়ানোই যে সরকারের লক্ষ্য, এ দিনের অনুষ্ঠানে সেই বার্তাই দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।