এক ঝলক
হঠাৎই শহরের কয়েকটি থানা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে কিরেণ রিজিজু'র উদ্যোগ অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আবার ধাক্কা, অনুমতি দিল না হাই কোর্ট ফারাক্কায় ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট কাণ্ড, শংসাপত্র বাতিল করল প্রশাসন পাঞ্জাব পুলিশের জালে সন্দেহভাজন আইএসআই ৯ জঙ্গি

ফারাক্কায় ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট কাণ্ড, শংসাপত্র বাতিল করল প্রশাসন

অভিজিৎ মন্ডল (ফারাক্কা):‌ পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, চাকরি এবং সংরক্ষিত কোটার সুযোগ নিতে তথ্য জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ বহু পুরনো। তবে সম্প্রতি ফারাক্কা এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তথ্য জালিয়াতি করে দীর্ঘ সময় ধরে তফশিলি উপজাতি (এসটি) ক্যাটাগরিতে সরকারি সুবিধা ও চাকরি ভোগ করার অভিযোগে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। জঙ্গিপুর মহকুমা শাসক অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফারাক্কার আলোচিত আইনুল হকের আট ছেলেমেয়ের সমস্ত এসটি সার্টিফিকেট আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা থানার ইমামনগর পঞ্চায়েতের তুলসীপুকুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ঝাড়খণ্ডের একটি সরকারি মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আইনুল হক ও তাঁর পরিবার বর্তমানে ফরাক্কা থানার বেওয়া-২ পঞ্চায়েতের তিলডাঙ্গা গ্রামের নিবাসী। এই পরিবারটি প্রকৃতপক্ষে ওবিসি বা অন্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ও তথ্য জালিয়াতি করে নিজেদের "বেদিয়া" (এসটি) হিসেবে দাবি করে শংসাপত্রগুলি সংগ্রহ করেছিল। ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এই আটটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের দফতর থেকে অভিযুক্ত আটটি শংসাপত্রধারীকে হিয়ারিং নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার পর তাঁরা নির্দিষ্ট নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে হাজির হন। জমা দেওয়া সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর মহকুমা শাসক অভিযুক্তদের সমস্ত এসটি সার্টিফিকেট বাতিলের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
Ganamadhyam
06 August, 2026
বাতিল হওয়া এই আটজন সন্তানের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে স্বনামধন্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন উম্মে কুলসুম ফারাক্কা চক্রের ভৈরবডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষিকা এবং বর্তমানে কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের বায়ো-সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। অন্যান্যরা বীরভূমের মুরারই কলেজের একজন অধ্যাপক, কলকাতার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একজন অধ্যাপক এবং দুজন এমবিবিএস  চিকিৎসকও এই তালিকায় রয়েছেন। পূর্ববর্তী আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে এসটি, এসসি, ওবিসি সার্টিফিকেট এবং সরকারি সুযোগ- সুবিধা প্রদানে অনিয়মের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক মহল।ভুয়া নথিপত্র দেখিয়ে বা ভুল তথ্য দিয়ে সংরক্ষিত কোটায় যারা এতদিন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তাদের সার্টিফিকেট বাতিলের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাশাপাশি, এই জালিয়াতির নেপথ্যে কোন কোন সরকারি কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের স্পষ্ট বার্তা, এই ধরণের দুর্নীতিতে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া চলবে না, যাতে প্রকৃত যোগ্য ও বঞ্চিত প্রার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পান।
ই-পেপার