এক ঝলক
পুজোর মুখে রাজ্য পুলিশে বড়সড় নিয়োগ

খড়্গপুরে বিজেপির বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ

সৌমেন আদক (খড়্গপুর): চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল খড়্গপুর পুরসভা চত্বর।পুরসভার গেটে তালা লাগিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী এবং তৃণমূলের কয়েকজন কাউন্সিলর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই খড়্গপুর পুরসভার প্রধান ফটকের সামনে জমায়েত শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। একসময় পুরসভার গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা। বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় র‌্যাফও।
Ganamadhyam
13 October, 2026
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়। এই পদে তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকারের নাম সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জল্পনা। তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিতে নারাজ বিজেপির একাংশ। সেই বিরোধিতা থেকেই পুরসভার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি বলে জানা গিয়েছে।
এদিন তৃণমূলের কাউন্সিলররা পুরসভায় পৌঁছলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তাদের লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি মহিলা তৃণমূল কাউন্সিলরদের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, প্রদীপ সরকার -ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলর পুরসভার ভিতরে প্রবেশ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় ফিদা হোসেন ও দেবাশিস সেনগুপ্ত -সহ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গিয়েছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। এতে সৌরভ ঝা, শ্রী রাও ও টিঙ্কু যাদব-সহ একাধিক বিজেপি কর্মী জখম হন বলে দাবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘক্ষণ ধরে উত্তপ্ত থাকে পুরসভার সামনের এলাকা।
অন্যদিকে, সংঘর্ষ ও অচলাবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘক্ষণ ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখা হয়। নির্বাচন স্থগিতের খবর সামনে আসতেই পুরসভার বাইরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।এরপর ধীরে ধীরে বিক্ষোভকারীরা পুরসভার গেটের সামনে থেকে সরে যান। চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘিরে এই বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় খড়্গপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কবে পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
ই-পেপার