এক ঝলক

পুজোর আগেই পুরোদস্তুর চালু হচ্ছে নতুন দ্বিতীয় ফারাক্কা সেতু

অভিজিৎ মন্ডল (ফারাক্কা): দুর্গাপুজোর ছুটির ঠিক আগেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরোদস্তুর চালু হতে চলেছে দ্বিতীয় ফারাক্কা সেতু। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও মসৃণ করতেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।দ্বিতীয় ফারাক্কা সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার। এই নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে যা সম্পূর্ণ হতে সময় লেগেছে প্রায় ৮ বছর। এই সেতুর অর্থ বরাদ্দ প্রায় ৫২১ কোটি টাকা। সেতুর প্রতিটি লেনে আপদকালীন বা এমার্জেন্সি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে কোনো গাড়ি মাঝপথে নষ্ট হলেও মূল সড়কে ট্রাফিক জ্যাম তৈরি না হয়। দীর্ঘ যানজট থেকে মুক্তি এতদিন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত পুরনো ফারাক্কা ব্যারেজের দু'লেনের সেতুটিই ছিল উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল চালু হওয়া এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার ছোট-বড় যানবাহন যাতায়াত করত। এর ফলে মুর্শিদাবাদ হয়ে মালদা, শিলিগুড়ি বা কলকাতার দিকে যাতায়াতকারী বাস এবং পণ্যবাহী লরিগুলোকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজটের মুখে পড়তে হতো। সম্প্রতি নতুন এই চার লেনের সেতুর একটি লেন পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পরই সুফল পেতে শুরু করেছেন যাত্রীরা।বাসচালক মিজারুল রহমান জানান, একটি লেন চালু হওয়ার ফলেই যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। এবার দ্বিতীয় লেনটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে এই নিত্যদিনের যন্ত্রণার চিরতরে অবসান ঘটবে। গতি আসবে পর্যটনেও পরিবহন ব্যবস্থার এই বড় অগ্রগতির ফলে সাধারণ যাত্রী এবং গণপরিবহনের চালকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল যেমন দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সিকিমের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও অনেক বেশি গতিশীল ও সময় সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।
Ganamadhyam
07 October, 2026
ই-পেপার