এক ঝলক

সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগ

স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): মরা শালগাছ, অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার, বেহাল মিড-ডে মিলের রান্নাঘর, নিরাপত্তার অভাব, নিম্নমানের খাবার এবং পর্যাপ্ত শিক্ষিকার অভাব—এমন নানা সমস্যা নিয়ে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানালেন ঝাড়গ্রাম রানি বিনোদ মঞ্জরী রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের কয়েকজন অভিভাবক। মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগে সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।
Ganamadhyam
07 October, 2026
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় চত্বরে ৩-৪টি মরা শালগাছ দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে যে কোনও সময় ছাত্রীদের আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়ের শৌচাগারও অত্যন্ত অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর বলে অভিযোগ। মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের বেহাল দশা এবং চারপাশে নোংরা-আবর্জনা পড়ে থাকার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয় চত্বরে কুকুর ও গরুর অবাধ প্রবেশ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকার অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। ছাত্রীদের নিম্নমানের মিড-ডে মিল দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। পর্যাপ্ত শিক্ষিকা না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং পঠন- পাঠন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তাদের দাবি। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা পুষ্পলতা বারুই মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁকে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। তার কথায়, সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অভিভাবকেরা জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ বা আশঙ্কার কথা জানাতেই পারেন। প্রধান শিক্ষিকা জানান, জেলাশাসক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেও তার তরফে এখনও কোনও সরকারি তদন্তের নির্দেশ আসেনি। কোনও প্রতিনিধি দলও বিদ্যালয়ে আসেনি। তার দাবি, স্কুলে পরিদর্শন খাতা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অভিভাবক মায়েরা স্কুলে এসে পরিস্থিতি পরিদর্শনের পাশাপাশি ছাত্রীদের দেওয়া খাবার চেখে দেখতে পারবেন। নিরাপত্তা ও শালীনতার কারণে বাবাদের দীর্ঘ সময় স্কুলে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ে বার বার তৈরি হওয়া সমস্যা ও জটিলতার কারণে তিনি ইতিমধ্যেই বদলির আবেদন করেছেন বলেও জানান প্রধান শিক্ষিকা। তার বক্তব্য, সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জেলাশাসকের প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অভিযোগপত্রের গ্রহণপত্র হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও খবর লেখা পর্যন্ত জেলাশাসকের তরফে কোনও জবাব মেলেনি।
ই-পেপার