এক ঝলক
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পার্ক স্ট্রিটের সেই ফুটপাতবাসী, পেলেন আশ্রয় যাদবপুর ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরাতে আবেদন উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের এসআইআরে নাম বাদ মানে নাগরিকত্ব বাদ যাওয়া নয় : সুপ্রিম কোর্ট সেলের সমন্বয়ে নরাকাস (উপক্রম-২), কলকাতার অর্ধবার্ষিক বৈঠক সম্পন্ন

তৃণমূলের দুই শিবিরকে সভার অনুমতি দিল আদালত

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২১ জুলাইয়ের সভাস্থল নিয়ে টানাপোড়েনের আঁচ এবার এসে পড়ল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসেও। ঐতিহ্যবাহী এই দিনটিতে সভা করা নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রতপন্থী শিবিরের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ছড়ায়। সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, দু’পক্ষের কাউকেই মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। আদালতের নির্দেশ, মমতাপন্থীরা সভা করবেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে ক্যাথিড্রাল রোডে, অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থীরা সভা করতে পারবেন রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে ২৮ অগস্ট গান্ধি মূর্তির কাছে মেয়ো রোডে সভা করতে চেয়েছিল উভয় পক্ষই। কিন্তু কলকাতা পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত শিবির। শুনানির শুরুতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, একসঙ্গে সভা করুন। প্রয়োজনে ব্রিগেডে ১০ হাজারের অনুমতি দেব। পনেরো বছর আগে কী ঘটেছে, তা এখন আর বিচার্য নয়। পরিস্থিতি বদলেছে, নিজেদের অবস্থা বুঝুন।
Ganamadhyam
26 August, 2026
এদিন শুনানি চলাকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিচারপতি মামলাকারীদের উদ্দেশে বলেন, পুলিশ তো এখানে সভা করতে একদম বাধা দেয়নি। নেতাজি ইন্ডোরে সভা করার বিকল্প দেওয়া হয়েছে, সেখানে আপত্তি কোথায়? জবাবে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করতে গিয়ে জানান, কোথায় সভা হবে, তা সরকার ঠিক করে দিতে পারে না। আমাদের কম করে ছয় হাজার সমর্থক আসবেন। মে মাসের পর থেকে ওই মেয়ো রোডেই অসংখ্য র্যালি হয়েছে। পালটা ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী বলেন, স্ট্যাটিউটারি বডির সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই অন্য পক্ষ একতরফা জায়গা পছন্দ করছে। শুনানি চলাকালীন দুই শিবিরের এই অনড় মনোভাব দেখে রীতিমতো বিরক্ত প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আমি এখানে কে আসল আর কে ডুপ্লিকেট তৃণমূল সেই বিচারে যাচ্ছি না। মামলাটি তার জন্য নয়। এরপরই প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি একসঙ্গে মেয়ো রোডে অনুষ্ঠান করতে রাজি?’ কালীঘাটপন্থী শিবির অবিলম্বে এই প্রস্তাব খারিজ করে জানিয়ে দেয়, তারা যৌথভাবে সভা করবে না, বরং তাদের রানি রাসমণিতে সভা করতে দেওয়া হোক।এর পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, তাহলে মেয়ো রোডে কাউকেই দেওয়া হবে না। আপনারা ক্যাথিড্রালে যান, ২১ জুলাইয়ের মতো অনুষ্ঠান করুন। আর ওরা ডোরিনাতে যাক। মেয়ো রোডের কত কাছে কে সভা করতে পারে, তা নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা চলছে না। আইনজীবীদের টানাটানি দেখে রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র মন্তব্য করেন, এরা সবসময় ‘আমার ওই লাল বেলুনটাই চাই, এমন জেদ করে কেন?’ এদিকে আবার ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে সমর্থকদের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ হাজার করার আবেদন জানানো হলে বিচারপতি সরাসরি নির্দেশ দেন, তাহলে আপনারা ময়দানে চলে যান। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশ, দুই পক্ষকেই সর্বোচ্চ দেড় হাজার সমর্থক নিয়ে দুপুর ১২টা থেকে নিজস্ব সভাস্থলে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে হবে।
ই-পেপার