এক ঝলক
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পার্ক স্ট্রিটের সেই ফুটপাতবাসী, পেলেন আশ্রয় যাদবপুর ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরাতে আবেদন উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের এসআইআরে নাম বাদ মানে নাগরিকত্ব বাদ যাওয়া নয় : সুপ্রিম কোর্ট সেলের সমন্বয়ে নরাকাস (উপক্রম-২), কলকাতার অর্ধবার্ষিক বৈঠক সম্পন্ন

জনরোষে নিজ ঘরে পরবাসী বিধায়ক, জগদীশ - সঙ্গীতা

প্রদীপ কুন্ডু (কোচবিহার): তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগদানের পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ যেন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও তার স্ত্রী বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। সিতাইয়ে নিজের বাসভূমিতেই তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে দীর্ঘক্ষণ টিকতে না পারার অভিযোগের পর এবার তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।অভিযোগ, নিজের এলাকায় মাত্র দু’ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করার পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে মধ্যরাতেই কোচবিহারের ফ্ল্যাটে ফিরে আসতে বাধ্য হন সাংসদ- বিধায়ক দম্পতি। অর্থাৎ, যে মাটিতে দাঁড়িয়ে একসময় রাজনীতি, জনসংযোগ আর ক্ষমতার দাপট দেখানো হয়েছে, সেই মাটিতেই এখন ‘স্বস্তির ঠিকানা’ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, এমনই কটাক্ষ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এরই মধ্যে তাদের দেখা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবনে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির অধিকারীর আশীর্বাদ গ্রহণ থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডা—সবই হল বেশ আন্তরিক পরিবেশে। এমনকী পাত পেড়ে দুপুরের খাবারও সারলেন এই সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি। সাক্ষাৎ শেষে জগদীশ চন্দ্রের বক্তব্যও যথেষ্ট আবেগঘন। শিশির অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি অভিভূত, পরিবারের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে এতটা আন্তরিকতা পাওয়ার পর এবার কি নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও সেই ‘আশ্রয়’ মিলবে? সিতাইয়ের মাটিতে যেখানে জনরোষের মুখে রাতারাতি ফিরতে হয়েছে বলে অভিযোগ, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় জগদীশচন্দ্রের পোস্ট করা ছবির নিচে তার একসময়ের অনুগামী বলে পরিচিতদের কটাক্ষও সেই অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য না এলেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে—দলবদলের পর জনসমর্থনের মাটি কি সত্যিই এতটাই নড়বড়ে হয়ে গেল যে নিজের বাসভূমিতে রাত কাটানোও কঠিন, অথচ অন্যের বাড়িতে গিয়ে পাত পেড়ে খাওয়াই এখন বেশি স্বস্তির? শেষ পর্যন্ত সিতাইয়ের মানুষ এই রাজনৈতিক দম্পতিকে কীভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার। কারণ রাজনীতিতে পদ-পদবি বদলানো যায়, দল বদলানো যায়—কিন্তু জনতার মন বদলানো যায় কি না, তার উত্তর দিতে হয় সেই জনতার কাছেই।
Ganamadhyam
26 August, 2026
ই-পেপার