এক ঝলক
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পার্ক স্ট্রিটের সেই ফুটপাতবাসী, পেলেন আশ্রয় যাদবপুর ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরাতে আবেদন উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের এসআইআরে নাম বাদ মানে নাগরিকত্ব বাদ যাওয়া নয় : সুপ্রিম কোর্ট সেলের সমন্বয়ে নরাকাস (উপক্রম-২), কলকাতার অর্ধবার্ষিক বৈঠক সম্পন্ন

যাদবপুর ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরাতে আবেদন উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদদাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ, অশান্তি ও গভীর রাতে বহিরাগত হামলার ঘটনার পর দেখতে দেখতে কেটে গেছে প্রায় এক সপ্তাহ। মঙ্গলবার এই যাদবপুরের ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলতে দেখা গেল তাকে। ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাম- দক্ষিণ তরজা এখনও অব্যাহত। বিজেপি নেতৃত্ব যেখানে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন গুলির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন, সেখানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্ররোচনা যে পক্ষ থেকেই আসুক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।মঙ্গলবার জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উপাচার্যদের একটি কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেন, কোনও প্ররোচনা বা তার প্রতি-প্ররোচনায় যা যা ঘটে চলেছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক এবং কর্মী, সকলের কাছে আমার আবেদন, দয়া করে শান্তি বজায় রাখুন। যাদবপুরের বৈশ্বিক সুনামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তার সংযোজন, শিক্ষা ও উৎকর্ষের পীঠস্থান হিসেবে নিজের স্থান ধরে রাখতে হলে যাদবপুর ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। এই ধরনের উটকো ঝামেলার কারণে যেন সারা বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে সব পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বেরিয়ে যান দক্ষিণপন্থী ছাত্র ও শিক্ষক- কর্মীদের একাংশ। পরবর্তীতে বামপন্থী ছাত্রদের ঘেরাও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জটিলতা আরও বাড়ে। বিক্ষোভের মুখ থেকে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে নিরাপত্তারক্ষীরা বার করার চেষ্টা করার সময় অরবিন্দ ভবনের বারান্দায় পড়ে যান তিনি। এই ঘটনায় তার হাঁটুতে আঘাত লাগে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে তদন্ত কমিটি ও ছাত্রদের দাবিদাওয়া নিয়ে মঙ্গলবারেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা কমেনি। এসএফআই-এর পক্ষ থেকে অঞ্জিল দাস জানান, সোমবারের বৈঠকে স্থির হয়েছে আগামী ২৭ অগস্ট তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক বসবে।
Ganamadhyam
26 August, 2026
এদিকে ছাত্র সংগঠনগুলির মূল দাবি,  তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা সুনিশ্চিত করতে ছাত্র প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য তথ্য বিকৃত করা না হয়। পাশাপাশি তাদের তরফ থেকে এও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার রাতে সিসিটিভি ফুটেজে যাদের দেখা গিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে এও দাবি করা হয় যে, প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য তথা গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউয়ের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ায় তাকে ‘স্টুডেন্টস গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল’-এর চেয়ারম্যান- সহ সমস্ত প্রশাসনিক পদ এবং অধ্যাপনার কাজ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিতে হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ‘স্টুডেন্টস গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল’টি বাতিল ঘোষণা করেছে, তবে ছাত্রদের বাকি দাবি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এদিকে ছাত্রদের তোলা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউ দাবি করেন, প্রবেশিকা পরীক্ষার অনিয়ম ধরে ফেলার কারণেই তাকে চক্রান্ত করে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি খুশি যে এই দায়িত্ব থেকে মুক্ত হলাম। প্রবেশিকা পরীক্ষার দুর্নীতি ধরে ফেলার ভয়েই আমাকে সরানোর এই চেষ্টা। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও দেওয়াল লিখনের অভিযোগ তুলে সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কোনো অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভারত-বিরোধী ভাবধারা ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই দিনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমাবাজি বা রাজনৈতিক অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দিয়েছে শিক্ষা দফতর।এদিকে ঘটনার তদন্তে গতি আনতে মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায় পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তদন্তকারীরা। সার্বিক এই উত্তাল পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলীর সংগঠন ‘জুটা’ পঠনপাঠন ও গবেষণার পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য সমস্ত পক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
ই-পেপার