এক ঝলক
হানিট্র্যাপ'-এ অপহরণের ছক হামিম ও অর্পিতার শিলিগুড়িকে আধুনিক স্মার্ট শহর‘হিমালয়ান সিট' রূপায়নে অগ্নিমিত্র পাল দুর্নীতিবাজরা আমাদের দলের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে ঃ দিলীপ অতিবৃষ্টিতে মাটির বাড়িতে ধস, চাপা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু প্রকল্পের বোর্ড উঠল, রাস্তা হলো না, হতাশ‌ তেওটের গ্রামবাসী

মুসাফির ক্যাফেনেটফ্লিক্সে

মুম্বাই: মুসাফির ক্যাফে (নেটফ্লিক্স) পরিচালক: রুচির অরুণ।স্রষ্টা ও লেখক: শরণ্যা রাজগোপাল।অভিনয়ে - বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো, মহিমা মাকওয়ানা, সাদিয়া সিদ্দিকী, রাজীব সিদ্ধার্থ, লাভলিন মিশ্র।
Ganamadhyam
02 August, 2026

প্রতিটা মানুষ যেমন আলাদা, ঠিক তেমনই তাদের প্রেমে পড়ার গল্পগুলো আলাদা। প্রেম প্রকাশের ধরন পৃথক, প্রত্যাশাও ভিন্ন। এটা ভেবে নেওয়াও ঠিক নয়, যে সব প্রেমের শুরু আর গতিপথ হালকা এদিক-ওদিক হলেও তাদের পরিণতি একই হবে। যে ধরনের ত্রিকোণ প্রেমের গল্প সাধারণত পর্দায় দেখতে দর্শক অভ্যস্ত, তার থেকে রুচির অরুণ পরিচালিত নেটফ্লিক্সের 'মুসাফির ক্যাফে' একেবারেই আলাদা। দিব্য প্রকাশ দুবের একই নামের উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত এই আট এপিসোডের সিরিজ পরিণত প্রেমের গল্প বলে। প্রেমের হাজার রকমফের। সে কখনও সরলরেখায় চলতে ভালোবাসে না। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার চন্দর (বিক্রান্ত ম্যাসি) ভোপালে চাকরি করলেও তার আসল স্বপ্ন পাহাড়ে ক্যাফে খোলার। বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে পরিচয় সুধার (বেদিকা পিন্টো) সঙ্গে। পেশায় ডিভোর্স উকিল সুধার বিয়ে নিয়ে মাথাব্যথাই নেই। সে চায় আরও বড় উকিল হতে, মায়ের খেয়াল রাখতে, তার সব স্বপ্ন পূরণ করতে। জীবনের চাহিদা আলাদা হলেও চন্দর আর বেদিকা একে অপরের প্রেমে পড়ে।চন্দরের বর্তমান জীবন অবশ্য মুসৌরিতে থিতু। তার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে সঙ্গী প্রীতির (মহিমা মকওয়ানা) হাত ধরে। পাহাড়ে জনপ্রিয় 'মুসাফির ক্যাফে'র বছর তিনেক বয়েস এখন। ক্যাফের নামটা যদিও সুধার উপহার। যে সুধা একরকম জোর করেই চন্দরের স্বপ্নে উড়ান দেওয়ার সাহস জুগিয়েছিল। সারণ্য রাজগোপালের লেখা এই সিরিজে দুই সময়রেখা সমান্তরালে চলে। একদিকে চন্দর আর সুধার বিপরীতমুখী চরিত্রের উদ্দাম, আনন্দে আত্মহারা প্রেম। আর অন্যদিকে পাহাড়ের শান্ত জীবনে হাতে হাত রেখে পাশাপাশি চলা চন্দর আর প্রীতির ধীর-স্থির সুনিশ্চিত সঙ্গ। 'লিটল থিংস' যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন রুচির প্রেমের গল্প সুন্দর করে, গুছিয়ে বলতে জানেন। এই সিরিজেও তার অন্যথা হয়নি। তবে দেখতে দেখতে মনে হয়, সিরিজের বদলে ছবি হলে এই গল্প আরও টানটান হত। এমন জায়গায় গল্প শেষ হয়েছে, যাতে দ্বিতীয় সিজন আসার সম্ভাবনা থেকে যায়। চন্দরের চরিত্রে বিক্রান্ত ম্যাসির অভিনয় 'ব্রোকেন বাট বিউটিফুল' -এর কথা মনে পড়ায়। দুই সময়রেখাতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। সুধার চরিত্রে বেদিকা প্রাণবন্ত হলেও, কিছু সিরিয়াস দৃশ্যে তাঁর অভিনয় আরও পরিণত হওয়ার দরকার ছিল। শান্ত অথচ দৃঢ় প্রীতির চরিত্রে মুসকানকে ভালো লাগে। দুটি ছোট চরিত্রে আদিল হুসেন এবং অনুভা ফতেপুরিয়াকে বেশ ভালো লাগে। অনিরুদ্ধ পাটাঙ্কারের চিত্রগ্রহণে ভোপাল সুন্দর লাগলেও যেন পাহাড়-ঘেরা কুয়াশা-মাখা মুসৌরির মায়া আলাদা। একবার কাউকে ভালোবেসে ফেললে, সে সারাজীবনের শরিক হয়ে থাকে, সে যত স্বল্পই হোক না কেন। আসলে প্রেমের পরিণতিটা কোনওদিনই গুরুতর নয়, সম্বল হয়ে থেকে যায় একসঙ্গে চলার পথটুকু। আর জীবন-পথের মুসাফিররা? তারাও কি আসলে একই রকম ছুটছে না? এক সম্পর্ক থেকে অন্য সম্পর্কে, এক অনুভূতি থেকে অন্য অনুভূতিতে, তারাও তো রোজ এগোচ্ছে নতুন নতুন পথ ধরে। সেই পথচলাও কি শুধু স্বপ্ন আর ভালবাসার খোঁজে? আবেগের পথ ধরে আসলে কি নিজেকেও নতুন করে চেনা হয়ে যায় না? যুগের হাত ধরে পাল্টেছে প্রেমের ধরন, বদলেছে তার ভাবনা। একালের প্রজন্ম বিশ্বাস করে সম্পর্ক আসলে ভাল থাকার, ভাল রাখার আর এক নাম। কারও হাত সারা জীবনের জন্য ধরা না-ই বা থাকল, তবু একসঙ্গে কাটানো ভাল সময়ের উষ্ণতা বা স্মৃতিগুলো ঠিক থেকে যায় মনের ভিতর। তা বলে আরও একটা সম্পর্কে যেতে, ভাল থাকতেও তো মানা নেই। জীবনের দুটো পর্বে দুটো আলাদা মানুষকে ভালবাসতেও বাধা নেই। এক সময়ে দেখা স্বপ্ন সময়ের হাত ধরে একটু পাল্টে গেলেই বা ক্ষতি কী! একালের ভালবাসার এই সহজ চলনপথটাকেই ছুঁয়ে গিয়েছে ‘মুসাফির ক্যাফে’। নিজের মতো করে, সহজ সরল এক কাহিনিতে একেবারে পাশের বাড়ির চেনা মুখগুলোর মতোই তিনটে চরিত্রকে বুনে দিয়ে। যদিও এ সিরিজের এমন একটা ক্লাইম্যাক্স না হলেও চলত বোধহয়। পরবর্তী সিজনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া না হলেও এ কাহিনির স্বাদ এতটুকু কমে যেত না। চন্দর-সুধার সম্পর্ক যেখানে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে দাঁড়ি পড়লেও এতটুকু রেশ ফেলত না তার উষ্ণতায়। যে উষ্ণতা ‘মুসাফির ক্যাফে’কে এক পলকে সেঁধিয়ে দিয়েছে বুকের ভিতর। যে স্বাদ লেগে থাকে মনের অলিতে গলিতে। সিরিজ শেষ হয়ে যাওয়ার বহু বহুক্ষণ পরেও।
ই-পেপার