কর্মিসভা, প্রস্তুতি বৈঠক, বাস বুকিং থেকে শুরু করে রেলস্টেশনে সহায়তা শিবির— শহিদ দিবসকে ঘিরে সরগরম থাকত গোটা সংগঠন। এ বার সেই ছবিটাই উধাও। ২১ জুলাইয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুরে জেলা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে। দরজায় ঝুলছে তালা। নেই প্রস্তুতির কোনও চিহ্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, জঙ্গলমহলে তৃণমূলের সাংগঠনিক সঙ্কটের ছবিটাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দুই শিবিরে বিভক্ত। দুই পক্ষই কলকাতায় পৃথক কর্মসূচির ডাক দিলেও ঝাড়গ্রামে কোনও শিবিরের তরফেই কার্যত সাংগঠনিক তৎপরতা চোখে পড়ছে না। জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি প্রসূন সড়ঙ্গী বলেন, “আগে জেলা সভাপতির মাধ্যমে প্রস্তুতির নির্দেশ আসত। কোথায় বৈঠক হবে, কত বাস যাবে, সব ঠিক হয়ে যেত। এ বার কোনও নির্দেশই আসেনি। আমিও এবার ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত রয়েছি। কোথাও যেতে পারবো না।” কালীঘাট পন্থী তৃণমূলের একাংশ কর্মীদের বক্তব্য, দলীয়ভাবে কলকাতায় যাওয়ারও কোনও ব্যবস্থা এবার নেই। অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির বিভিন্ন জেলায় সভাপতি ঘোষণা করলেও ঝাড়গ্রামে এখনও সেই পদে কাউকে ঘোষণা করা হয়নি। এক সময়ে ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আইএনটিটিইউসি এর প্রাক্তন ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি মহাশিস মাহাতো বলেন, “আমি কোনও ভাঙাভাঙির মধ্যে নেই। তবে ভোটের ফলের পর দলের দায়িত্বে থাকা নেতৃত্বের অনেককেই কর্মী-সমর্থকেরা খুঁজে পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দেবাশিস কুণ্ডুর দাবি, ভোটের ফলের পর তৃণমূল কার্যত অস্তিত্বহীন। মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই ২১ জুলাই নিয়েও মাঠে নামার শক্তি নেই। তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু ফোন ধরেননি। মেসেজেরও জবাব দেননি।